ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আ.লীগের পদধারী নেতা রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় প্রধান!

আ.লীগের পদধারী নেতা রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় প্রধান!
×
×

আওয়ামী লীগের পাবনা জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক কার্যকরী সদস্য প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন (বামে)। ছবি: সমকাল

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৭

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাবনা জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক কার্যকরী সদস্য প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক এই সহ-সম্পাদক পাবনা-৫ (সদর) আসন থেকে একাধিকবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অথচ, এই নেতা রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক। হঠাৎ পল্টিবাজিতে আওয়ামী নেতার এমন পদপ্রাপ্তিতে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারাও।

আজ শনিবার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পাবনা জেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর ড. ঈসমাইল হোসেন সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৫ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। দলের এমন একজন পদধারী নেতা পদত্যাগ না করেই হঠাৎ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় বিস্মিত দলের তৃণমূল ও নীতিনির্ধারক পর্যায়।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিত ফয়সাল রিজভী ড. মুহাম্মদ ঈসমাঈলের আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। এবং দল থেকে তিনি কখনোই দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকে মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় পদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। দলে আওয়ামী লোকজনের অনুপ্রবেশ রোধে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরও ঈসমাইল সাহেব কীভাবে এই দলে এলেন, তা আমার জানা নেই। আমি দলীয় ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করব।’

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মাহবুবা কাজল বলেন, ‘সমাজে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী থাকে, যারা সব সময় ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে সুবিধা নিতে চায়। এদের মূলত কোনো আদর্শিক জায়গা নেই। যিনি জেলা আওয়ামী লীগের রানিং কমিটির উপদেষ্টা এবং দলের মনোনয়নপ্রার্থী ছিলেন, তিনি বিএনপির মতো একটি দলের বিভাগীয় পদে কীভাবে আসীন হলেন—এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা কারও নেই। আমি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।’

আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘কে বা কাহারা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্যের তালিকায় আমার নাম দিয়েছিল। আমি বিষয়টি জানার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ২০২৩ সালের পর থেকে আমি আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় ‘

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘মুহাম্মদ ইসমাইলকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও অবগত নই। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য হলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দলের ফোরামে জানাবো।’

ঘটনাটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে দলের হাইকমান্ড। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ঈসমাইলের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তার এই রাজনৈতিক পরিচয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা প্রমাণিত হলে মুক্তিযোদ্ধা দলে এটিই হবে তার শেষ দায়িত্ব। তাকে আর এই সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হবে না। ঢাকায় পৌঁছেই তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও পদ বাতিলের নোটিশ ইস্যু করা হবে।’

আরও পড়ুন

×