ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা

যশোরে ৪ যুগের কাহিনিতে সেজেছে মন্দির

যশোরে ৪ যুগের কাহিনিতে সেজেছে মন্দির
×
×

যশোর অফিস

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৩৭ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:০৩

সারি সারি ছোট-বড় প্রতিমা। নানা রুপে সজ্জিত দেব-দেবী। একটি দুটি নয়; এক ছাদের নিচে ১০১টি প্রতিমা। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি– এই চার যুগের ধর্মীয় ও পৌরাণিক নানা উপাখ্যান ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার শৈল্পিক রূপান্তরের মাধ্যমে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে যশোর শহরতলির চাঁচড়া বর্মনপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে।

আজ শনিবার দেখা যায়, বিশাল এই আয়োজনে ঠাঁই পেয়েছে সরস্বতী, শিব, রাধা-কৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাম-সীতা, হনুমান, কপূতা রাক্ষসী, কুম্ভকর্ণ, জগদ্ধাত্রী, কালী, মনসাসহ বিভিন্ন দেব-দেবী ও পৌরাণিক চরিত্র। মৃৎশিল্পীদের টানা দুই মাসের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাচামাটির কাঠামোয় যেন প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমাগুলো। শেষ সময়ে চলছে রঙের কাজ। 

চার যুগের আবহ নিয়ে তৈরি এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপ শুধু স্থানীয়দের মধ্যেই উচ্ছ্বাস জাগায়নি, বরং শরতের শুভ্রতা, ঢাকের বাদ্য আর প্রতিমার বৈচিত্র্যে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদেরও দারুণভাবে আকৃষ্ট করবে। মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, এই আয়োজন সনাতন ধর্মাবলম্বী নতুন প্রজন্মকে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় শিক্ষা সম্পর্কে সাহায্য করবে।

ভাস্কর আকাশ মণ্ডল বলেন, ‘চার যুগের কাহিনিতে দুই মাস ধরে প্রতিমাগুলো তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে রঙের কাজও শেষের দিকে। রাত-দিন কাজ করছি। কিছুটা সাজসজ্জার কাজ বাকি রয়েছে। দর্শনার্থীরা দেখতে এসে যখন কাজের প্রশংসা করছে; তখন আনন্দ উদ্বেলিত করছে।’

যশোরের আট উপজেলায় এবার ৭৪৩টি মন্দির মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এই সংখ্যা ২৮টি বেশি। এ তথ্য জানিয়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদ যশোরের সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতন বলেন, ‘কোনো মণ্ডপে ডিজে না বাজিয়ে ভক্তিগীতি বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×