ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা

ডিএনএ পরীক্ষায় যাচ্ছে সোয়াব ও পোশাক

ডিএনএ পরীক্ষায় যাচ্ছে সোয়াব ও পোশাক
×
×

প্রতীকী ছবি

 কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৬

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, তা জানতে ময়নাতদন্তের সময় সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই নমুনা ও তার পরিধেয় পোশাক ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও ফরেনসিক নমুনা পরীক্ষা করা হবে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার এসআই আবদুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এসব আলামত ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে গতকাল রোববার আদালতে আবেদন করেছেন তিনি।

এদিকে ওই কিশোরীকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়া রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

স্কুলছাত্রী হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়েটিকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই দিন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ওই কিশোরী কক্সবাজারে কার সঙ্গে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ফারুক সমকালকে বলেন, তদন্তে কোনো বিষয় বাদ যাবে না। শনিবার আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন ভুক্তভোগীর সোয়াব, ফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত সিআইডির ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ওই কিশোরীর কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখানে আবাসিক হোটেলে এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয় শনাক্ত করা হয়েছে। 

জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কক্সবাজারের হোটেলে কিশোরীটিকে ডেকে নেওয়া তরুণকে আইনের আওতায় আনা হবে গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামে ওই কিশোরী। পরে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে লালমাই উপজেলার একটি কৃষিজমিতে নিয়ে যান অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

হত্যার পর কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় পালিয়ে যান সুমন। বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

রিয়াজের সঙ্গে শেষ যে কথা হয়েছিল 

কুমিল্লার স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল রিয়াজের সঙ্গে। কক্সবাজারে গিয়ে রিয়াজের সঙ্গে ছিল সে। রিয়াজের বক্তব্যে নিখোঁজ হওয়ার আগের বুধবার রাতের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রিয়াজ বলেন, বুধবার রাতে কিশোরীটি কুমিল্লা শহরের বাসায় গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ পায়। পরে মা-বাবাকে ফোন করে সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাঁকে জানায়।

রিয়াজের ভাষ্য, রাতে বাসায় ঢুকতে না পেরে কিশোরীটি তার এক ‘আঙ্কেল’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিশোরী বলে, সে আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছে। এরপর তিনি (রিয়াজ) কিশোরীকে ভিডিও কল দেন। এ সময় তিনি তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান। এ নিয়ে তাকে বকাঝকা করেন। রিয়াজ বলেন, বকাঝকার পর কিশোরী ফোন কেটে দেয়। পরে মেসেজে তাঁকে চিন্তা না করতে বলে এবং সকালে বাসায় ফিরে যাবে বলে জানায়। তখন তিনি (রিয়াজ) জানতে চান, সে কাকে ফোন করেছিল। পরে কথা বলে তিনি বুঝতে পারেন, সে হয়তো সিএনজিচালকের কথাই বলতে চেয়েছিল।

আরও পড়ুন

×