বটবুনিয়া নতুন বাঁধের ৪৫ মিটার নদীতে বিলীন
ছবি: সংগৃহীত
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৩
খুলনার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর তীরে গত বছর নির্মিত বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার সকালের ভাঙনে অন্তত ৪৫ মিটার ধসে পড়েছে। একে লোকালয়ে পানি ঢুকে ১৫-২০টি বসতঘরের ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের ঘর নদীতে পড়ায় তারা ওয়াপদা বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হরিসভা মন্দির ও স্থানীয় সরদার বাড়ির সামনে গত বছরের অক্টোবরে ভাঙন দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক ও উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে।
সেই বাঁধের ৪৫ মিটার গতকাল সকালে ধসে পড়লে লোকালয়ে পানি ঢুকে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষ্ণপদ সরদার। তাঁর ভাষ্য, পৈতৃকসূত্রে পাওয়া তিন কাঠা ভিটেবাড়িই ছিল। তিন বছর আগে ভাঙনে দুটি বসতঘর হারিয়েছেন। পরে একটি ঘর তৈরি করেন। বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের চার সদস্য নিয়ে সেখানেই থাকতেন। গতকাল সকালে সেই ঘরটিও ঢাকী নদীতে ভেঙে গেছে। এখন সবাইকে নিয়ে কোথায় যাবেন, বুঝতে পারছেন না।
কৃষ্ণপদ সরকার ছাড়াও প্রশান্ত সরদার, অলোকেশ সরদার, রীনা মণ্ডল, প্রদীপ সরদার, যদুবর সরদার, অজিত সরদার, রণজিৎ সরদার, গোবিন্দ সরদার, গোপাল সরদার, পরিতোষ সরদার, সূর্য কান্ত সরদার, শেখর সরদার, নিরঞ্জন সরদার, রবিন রায়, অবনী মণ্ডলের বাড়িতেও পানি ঢুকেছে। আর কয়েকটি পরিবার ওয়াপদা বেড়িবাঁধে উঠেছে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছেন। ভাটার সময় পানি নেমে যাওয়ার পর কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিনের ভাষ্য, বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হরিসভা মন্দির ও স্থানীয় সরদার বাড়ির সামনে নির্মিত পাউবোর বাঁধটির কোনো না কোনো অংশে জোয়ার-ভাটার তোড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এই এলাকায় নদীর গভীরতা রোধে ও জোয়ার-ভাটার গতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।
চালনা পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফ্ফার হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত জায়গায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ জরুরি। কারণ ঢাকী নদীর খরস্রোতা। জোয়ার-ভাটার তীব্রতার কারণে বাঁধটির আরও ক্ষতি হতে পারে। তিনি জানান, এরই মধ্যে এ বিষয়ে পাউবোর সঙ্গে সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের কথা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুর রহমান বলেন, দাকোপে পাউবোর ৩১ নম্বর পোল্ডারের বেড়িবাঁধ যুগোপযোগী করে নির্মাণের পাশাপাশি দুর্যোগ সহশীল টেকসই বাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধের ৪৫ মিটার বাঁধ ঢাকী নদীতে ধসে পড়েছে। এ কারণে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ভাটায় পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সেখানে কাজ শুরু করেন। এখন পানি ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে।
দাকোপের ইউএনও মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, সংবাদ পেয়েই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করবেন। সে অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেবেন।
- বিষয় :
- খুলনা