ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এমপির ভাই, মামা পেলেন সারের ডিলারশিপ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও

এমপির ভাই, মামা পেলেন সারের ডিলারশিপ
×
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। সারের ডিলারদের তালিকায় বিএনপি দলীয় এমপির ছোট ভাই, মামা ও চাচাতো শ্যালকের প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিরা আগে কোনোদিন সার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন না। এ নিয়ে গফরগাঁওয়ের ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছে মেসার্স এসএম এন্টারপ্রাইজ। যার প্রোপ্রাইটর মো. মনিরুজ্জামান। তিনি এমপি আক্তারুজ্জামানের আপন ছোট ভাই। তিনি দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। মনিরুজ্জামান জানান, তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। গ্রামের নামের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি আগে ঢাকা-৮ আসনের ভোটার ছিলেন। মাইজবাড়ি আর সৈয়দপাড়া গ্রাম পাশাপাশি অবস্থিত। সম্প্রতি তিনি মাইজবাড়ি এলাকায় ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন।
উস্থি ইউনিয়নে সারের ডিলার হয়েছেন এমপির মামা মো. মনিরুজ্জামান জসিম। তাঁর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জাহিদুল স্যানিটারি অ্যান্ড হার্ডওয়্যার’। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমপির পরিচয়টা এখানে বলতে চাই না। এমপির পরিবারের লোকেরা ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কারা কারা আমার এলাকায় আবেদন করেছেন, তা আমার জানা নেই। আপনারা এসব বিষয় নিয়ে কেন ঘাঁটাঘাঁটি করেন?

উপজেলার যশরা ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছে ‘সেলিম ট্রেডার্স’। এটির প্রোপ্রাইটর দেখানো হয়েছে মো. সোহেল রানাকে। তিনি গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। সোহেল রানা বলেন, সারের ডিলারশিপ পেয়েছি, তবে কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। 
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুখেন আকন্দ জানান, যশরা ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সেলিম ট্রেডার্স এর মালিক সেলিম মিয়া সংসদ সদস্যের চাচাতো শ্যালক। এমপির শ্যালক পরিচয় দিয়ে তিনি উপজেলায় বিভিন্ন কাজ করেন। সোহেল রানা নিজেকে এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী দেখিয়ে ডিলারশিপ নিয়েছেন, যদিও তিনি এ প্রতিষ্ঠানের কেউ নন।
ব্যবসার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু এমপির আত্মীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় ডিলারশিপ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশক্রমে গফরগাঁওয়ের দুই উপজেলায় ১৬ জন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিলারশিপগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এ তিন মাস তাদের সার বিতরণ ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। কাজের মান সন্তোষজনক হলে ডিলারশিপ স্থায়ী করা হবে। তবে প্রভাব খাটিয়ে অভিজ্ঞতাহীনদের হাতে সার বিতরণের দায়িত্ব যাওয়ায় সুষম বণ্টন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে এমপির পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। ত্যাগী নেতাকর্মীরা এ ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক। ডিলার নিয়োগে অনিয়ম করায় গফরগাঁও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নাম্নী বলেন, যা কিছু হয়েছে, সবই কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। কিছু কিছু ইউনিয়নে আবেদন একদম কম পড়েছে। আমরা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যেগুলো সঠিক পেয়েছি, সেগুলোই মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছি। টাকা-পয়সার লেনদেন বা স্বজনপ্রীতির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, কাগজপত্র এবং অন্যান্য মানদণ্ড যাদের সঠিক ছিল, তাদের ব্যাপারে আমরা সুপারিশ করেছি। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের আবেদন পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন শনাক্ত করার সুযোগ আমাদের ছিল না।
 সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমার ছোট ভাই ও মামা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক নির্যাতিত। তিনি আরও বলেন, সোহেল রানা গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তিনি আমার কোনো আত্মীয় নন। তিনি গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল হকের আত্মীয়।

আরও পড়ুন

×