ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক মঞ্চে ‘কার্বোডিট’ এর মডেলের সাফল্য

বসতবাড়ির গাছ হতে পারে কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ

বসতবাড়ির গাছ হতে পারে কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ
×
×

শ্রীলঙ্কায় রানার্সআপের সনদ হাতে কার্বোডিটের সদস্যরা সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামের কোনো কৃষকের বসতবাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছই হয়ে উঠতে পারে পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস। গাছের কার্বন ধারণক্ষমতাকে কৃষকদের আয়ের উৎসে পরিণত করার সম্ভাবনাময় ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দল ‘কার্বোডিট’। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়েছে বাংলাদেশের দলটি।

‘এশিয়া-প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিরডাপ নলেজ সার্কিট ডায়ালগ অন শ্রীলঙ্কা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হরিণী অমরসূর্য। সভাপতিত্ব করেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক মো. সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
গতকাল মঙ্গলবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৭ থেকে ৯ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিজেদের উদ্ভাবনী মডেল উপস্থাপন করে কার্বোডিট। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের অংশগ্রহণে 
আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জমা পড়ে ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব। আন্তর্জাতিক বিচারকদের মূল্যায়নে চ্যাম্পিয়ন হয় ইরান। আর রানার্স-আপ হয় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদের দলটি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে কার্বন সঞ্চয় করে। এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে ক্ষুদ্র কৃষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই কার্বোডিটের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উদ্যোগটির ভাবনা হলো– গ্রামীণ মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষি বনায়ন ব্যবস্থায় থাকা গাছগুলোকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনাময় সম্পদে পরিণত করা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছের কার্বন মজুত নিরূপণ এবং স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ী তা যাচাই করা গেলে উপযুক্ত কার্বন ক্রেডিট প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য তৈরি হতে পারে বিকল্প আয়ের সুযোগ। এ লক্ষ্যে গ্রামভিত্তিক ‘ভিলেজ কার্বন গ্রুপ’ গঠন, গাছের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষিত তরুণদের মাধ্যমে গাছ পরিমাপের পরিকল্পনা করেছে দলটি। 
কার্বোডিটের টিম লিডার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাইফুল্লাহ মানওয়ার দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতাও। অন্য সদস্যরা হলেন– প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাবিয়ান তাসকিন, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) অদিতি ঘোষ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্ত আরফা সাইয়ারা রিজা। ইতোমধ্যে গাজীপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও নাটোরে মাঠ পর্যায়ে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে তারা। বর্তমানে উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ২১ শিক্ষার্থী।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্বোডিটের এ সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণারও বটে। 
 

আরও পড়ুন

×