বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ফের অবরোধের ঘোষণা
ফাইল ছবি
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩৭
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে ফের সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশন। গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ চলাকালে প্রশাসন তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিল সংগঠন দুটি।
বুধবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে পুনরায় অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকের মাচলং এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই দিন প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাচলংয়ের এক সাধারণ গ্রামবাসীর ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন। তাঁরা মাচলং এলাকার থালকুজ্জো, ছিল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
সংগঠন দুটির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লোকদেখানো অভিযান চালালেও সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এ কর্মসূচি পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত রোববার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সাজেকের কটেজ ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।