কালীগঞ্জের বেদেপল্লিতে সংঘর্ষে আহত ১৫, ভাঙচুর-লুটপাট
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১৭
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বেদেপল্লিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং এ ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মারধরে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। উপজেলার কাশীপুর বেদেপল্লি এলাকায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে কালীগঞ্জ থানা ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক ব্যবসা ও ড্রাগন ফল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকের ড্রাগন ফল চুরির ঘটনায় মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে বস্তি থেকে একজনকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মিজান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আনে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেদেপল্লি ও স্থানীয় অধিবাসীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর জেরে সোমবার রাতে বেদেপল্লির একাংশের সরদার মনিরুল ও রেজাউল ইসলাম রেজা দলবল নিয়ে অপর পক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে মাসুদুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম নামে দুজনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালালে গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় গণপিটুনির শিকার হয় রেজা গ্রুপের নয়ন।
পরে মঙ্গলবার সকালে গ্রামের লোকজন বেদেপল্লি থেকে শামিম হোসেন (৩০) ইজা (৪৮), ওহিদুল (২২), মহব্বত (২৬), আব্দুর রশিদ (৫০), তাঁর মেয়ে শাবনুর (২৩) ও আজিজুল (৪৬) নামে কয়েকজনকে ধরে এনে মারধর করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৬ জনকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে মনিরুল নামে একজনকে পরে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনও কোনো পক্ষই থানাতে অভিযোগ দেয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে।