ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সন্তানদের কথা দিয়েছিলেন—বাড়ি ফেরার সময় চকলেট আনবেন, কিন্তু এলো মৃত্যুর খবর

সন্তানদের কথা দিয়েছিলেন—বাড়ি ফেরার সময় চকলেট আনবেন, কিন্তু এলো মৃত্যুর খবর
×
×

জুয়েল মাদবরের ছেলে সাইফান ও মেয়ে রিদিতা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৬

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে চার বছরের মেয়ে রিদিতা ও দুই বছরের ছেলে সাইফানকে আদর করে বলেছিলেন, ফেরার পথে তাদের জন্য চকলেট নিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর রাখা হলো না জুয়েল মাদবরের (৪০)। সন্তানদের জন্য চকলেটের বদলে বাড়িতে ফিরল তাঁর মৃত্যুর খবর।

মঙ্গলবার সকালে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার। বাবার জন্য অপেক্ষায় থাকা ছোট্ট দুই শিশু বারবার মাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘বাবা কই, বাবা কখন আসবে?’ তাদের প্রশ্নের উত্তর নেই মায়ের কাছে। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৌসুমী বলেন, ‘আমার বাচ্চাদের বলে গেছে, আসার সময় চকলেট নিয়ে আসবে। এখন এই চকলেট কে আনবে?’ স্বামী হারানোর শোকের পাশাপাশি সন্তানদের কীভাবে বড় করবেন, তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়বেন—সেই দুশ্চিন্তাও ভর করেছে তাঁর মনে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জুয়েলসহ জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হন। নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকার সরকারপাড়ায় এ দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জুয়েলের সঙ্গে নিহত অন্য চার ব্যবসায়ী হলেন জাজিরার ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার সালাল মোল্যা (৪৫), ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার (৩০), কাজিরহাট এলাকার সামাদ ফকির (৬৫) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন বেপারী (৩০)। তাঁরা সবাই ডুবিসায়বর বাজারের কাঁচামাল ও ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

ডুবিসায়বর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘এই মানুষগুলোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের বাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁরা সবাই বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল কিনে এই বাজারে বিক্রি করতেন। বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছি।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×