ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারের সমালোচনা, কারাগারে নারী

সরকারের সমালোচনা, কারাগারে নারী
×
×

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ভালুকা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুকে লাইভ করে ক্ষোভ প্রকাশ করার ঘটনায় আটক ব্যবসায়ী নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাতে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আদালতের পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান।

কারাগারে পাঠানো ওই নারীর নাম সাথী আক্তার (৩০)। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটের ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক এবং আমজাদ আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিটের ভিডিও দুটিতে তাঁকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে সাথী আক্তারকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও আমরা পর্যালোচনা করেছি। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। পুরো ভিডিও না দেখে মূলত গুজব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।’

ওসি জানান, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন সাথী। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার মতো কোনো আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
টাঙ্গাইলে যুবদল নেতা বহিষ্কার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম রফিকুল বারী রুবেল চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শুক্রবার ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে পোস্ট দেওয়াসহ সরকার ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করার দায়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার রাতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেসবুকে সরকার ও দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগে এস এম রফিকুল বারী (রুবেল চৌধুরী)-কে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘আমার মনে কষ্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ লিখে একটি পোস্ট দেন রুবেল চৌধুরী। জানতে চাইলে রুবেল চৌধুরী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, আমার মনে অনেক কষ্ট। তাঁরা তখন জানতে চেয়েছিলেন কিসের কষ্ট। তখন আমি বলেছি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা কর্মকাণ্ডের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো কিছুই করতে পারছেন না। এ কারণে তাঁর পদত্যাগ চেয়েছি। সাংবাদিকরা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে লেখার কারণে আমাকে যুবদলের সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। 

কোনো সমস্যা নেই, আমি মেনে নিয়েছি। আগামী ইউপি নির্বাচনে আমি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের কাছে আবেদন করব এবং কালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থী হবো।’

আরও পড়ুন

×