ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সাড়ে ৭ কোটি টাকার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সমুদ্রের বালু ব্যবহার

সাড়ে ৭ কোটি টাকার আশ্রয়কেন্দ্র  নির্মাণে সমুদ্রের বালু ব্যবহার
×
×

দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর পাশাপাশি সমুদ্রের বালু ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন। গত মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী নতুন বাজারের প্রধান সড়কে সমকাল

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর পাশাপাশি সমুদ্রের বালু ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত ও গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী নতুন বাজারের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ২০২৪ সালের মে মাসে আশ্রয়কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ির ‘এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড’। এ প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপকূলের মানুষের দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নির্মিত ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করা হলে সেটি টেকসই না হওয়া এবং মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেবে। অনিয়মের তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকল্পের মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শামসুল আলম বলেন, দুর্যোগের সময় উপকূলের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের অন্যতম ভরসা এই আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে সমুদ্রের বালু ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত করে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার ও তাঁর লোকজন বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানকে চাপে ফেলতে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগও তোলা হয়েছে।

বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে কাজে বাধা দেন। এর পর এ ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, ‘নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সাইটে থাকা ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. আবু বক্করের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

আরও পড়ুন

×