ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটে তিন খুন

রাজপথে পিতৃহত্যার বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

রাজপথে পিতৃহত্যার বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
×
×

 সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বরে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যার ন্যায়বিচার দাবিতে মাঠে নেমেছেন স্বজনরা। গতকাল বুধবার শহীদ মিনারে অবস্থান শেষে পদযাত্রা করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তারা।

ওই সময় তাদের হাতে ‘পিতামাতা হত্যার বিচার চাই সংবলিত’ প্ল্যাকার্ড ছিল। নিহত দম্পতির যুক্তরাজ্য প্রবাসী কন্যা সেলিনা সুলতানা শিখা কাফনের কাপড় পরে পিতা হত্যার বিচার দাবি করে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, নগরীর রিকাবী বাজারের পুলিশ লাইন্স গির্জা সমিতির জায়গায় নির্মাণাধীন ইম্পালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাবার মামলা চলছিল। তিনি জীবিত থাকাবস্থায় মামলা ও জিডি করেছেন। আমার পিতামাতাসহ তিনজনকে খুন করার পরও কেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। আগের মামলা ও জিডির তদন্ত কী হলো, জানতে চেয়েছেন তিনি। তাঁকে বলা হয়, সেগুলো আর তদন্ত করা যাবে না। সেলিনা প্রশ্ন তুলেন, এর পেছনে কারা আছে, কারা মদদ দিচ্ছে।

স্মারকলিপি গ্রহণ করার পর ওইদিনই জেলা প্রশাসক তা প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের উদ্দেশে প্রেরণ করেছেন। স্মারকলিপিতে তিন খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য ও সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি করা হয়।
সেলিনা সুলতানা স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করেন, গত ১২ আগস্ট তাদের পিতামাতা ও গৃহকর্মীকে অজ্ঞাতপরিচয় ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে খুন করানো হয়। পুলিশ বাবুল নামে রংমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে। সে নাকি ২৩ মিনিটে তিনজনকে খুন, তাঁর শরীর ও পোশাকে লাগা রক্ত এবং রক্তমাখা ছুরি পরিষ্কার করে। একই সময়ে হাত ব্যান্ডেজ করে এবং ওই ঘরের তিনটি আলমারির পাঁচটি তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোঁজাখুঁজি করে দলিলাদি নিয়ে যায়। যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

স্মারকলিপিতে নিহত আব্দুস সাত্তারের কেনা জায়গা নিয়ে বিরোধসহ গির্জা সমিতির দায়ের করা বিভিন্ন মামলার কথা তুলে ধরে বলা হয় ২০০৬ সালে সিরাজুল ইসলাম জাল দলিল সৃষ্টি করে গির্জা সমিতির জায়গায় ইম্পালস টাওয়ার নির্মাণ শুরু করেন। জালিয়াতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলাসহ একাধিক মামলা হয়। তাঁর বাবার সঙ্গেও মামলা চলে সিরাজুল ইসলামের। সর্বপ্রথম সিরাজুল ইসলাম তাঁর পিতাকে হুমকিও দেন।

আরও পড়ুন

×