ছাত্রাবাসে মুখোমুখি ছাত্রশিবির-ছাত্রদল
বরিশাল বিএম কলেজ
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বন্ধ করে হামলার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পর এ ঘটনা শুরু হলে গভীর রাত পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
শিক্ষার্থীদের এক পক্ষের অভিযোগ, কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়লে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
তবে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিছু কর্মী ও সমর্থক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাত ১০টায় অশ্বিনী কুমার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাধারণ সভা শুরু হয়। ছাত্রাবাসের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সভায় অংশ নেন। সভার এজেন্ডা ছিল সম্প্রতি ছাত্রাবাসের বন্ধ করে দেওয়া সড়কের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা, ছাত্রাবাসের নানা সমস্যা মোকাবিলায় ব্লকভিত্তিক ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন এবং বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন।
শিক্ষার্থীরা সভায় ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদকের উদ্দেশে জানতে চান, গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় সড়কের নির্মাণকাজের ঢালাই দেওয়া কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো? অনিয়ম থাকলে আগে কেন আপত্তি জানানো হয়নি। এক পর্যায়ে ছাত্রদল সভাপতি জুবায়ের হোসেন ও সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সভায় উপস্থিত হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিতে গিয়ে আধাঘণ্টা সময়ক্ষেপণ করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। তিনি বক্তৃতা করা সময়েই ছাত্ররা জানতে চান, কেন রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিল ছাত্রদল, কবে কাজ শুরু হবে? তখন ছাত্রদল সম্পাদক ওয়ালিদ বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে। শতভাগ মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে না দিলে বিল নিতে দেবেন না। এ সময় ব্লকভিত্তিক কমিটি গঠনের বিরোধিতাও করেন তিনি।
এ নিয়ে সভাকক্ষে উত্তেজনার মধ্যে বহিরাগত ১৫ থেকে ২০ জন ঢুকে হইচই করলে দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। তখন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। অনেকের হাতে রান্না করা লাকড়ি ও লাঠিসোটা ছিল। এরই মধ্যে সভাকক্ষে খবর পৌঁছায়, কর্মচারীদের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নিয়ে সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে ছাত্রাবাসের ‘এ’ ব্লকের আবাসিক ছাত্র বাংলা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের আকবর মুবিন বলেন, নানা সমস্যার সমাধান এবং বনভোজন করার জন্য ছাত্ররা সভা ডাকেন। সেখানে বহিরাগতরা ঢুকে কর্মচারীদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে সিসিটিভির মতো স্পর্শকাতর জিনিস নষ্ট করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রাবাসের ছাত্ররা নিজেদের নিরাপত্তায় ইউনিটি করতে চায়, কিন্তু ছাত্রদলের কতিপয় নেতা এই ইউনিটিকে ভয় পাচ্ছেন।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, ‘বুধবার রাতে অশ্বিনী কুমার হলে কথাকাটাকাটি হয়েছে মাত্র। বহিরাগত ঢোকার অভিযোগ আমরা শুনেছি। কিন্তু বহিরাগত পাইনি।’ সিসি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে কিছু বলেননি। ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সড়ক নির্মাণ হোক, তা আমরাও চাই।’
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে যাওয়া নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মাহফুজ বলেন, ছাত্রাবাস সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের ভুল বোঝাবুঝিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানিয়েছেন, ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে তিনি পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। সহকারী সুপার ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদকের মতপার্থক্য হয়েছিল। ছাত্রদের সভায় ছাত্রনেতারা গেলে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ গিয়ে বহিরাগত পায়নি। পুলিশের উপস্থিতিতে রাতেই দুই পক্ষে সমঝোতা হয়েছে।
- বিষয় :
- বরিশাল