গভীর রাতে রাস্তার ইট লুটের অভিযোগ
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে রাজাবাড়িয়া-হালিউড়া রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ইট বিছানো হয় রাস্তায়। কিন্তু রাতের মধ্যে রাস্তার ইটগুলো তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নে। গত বুধবার রাতে ইটগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নান্দাইল-হোসেনপুর সড়কের রাজাবাড়িয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হালিউড়া গ্রামে হালিউড়া দক্ষিণ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। পাকা সড়ক থেকে প্রায়
আধা কিলোমিটার দূরে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তা বর্ষাকালে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি
পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশে দুই মাস আগে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তায় ইট বিছানোর (হেরিং বন্ড) উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের তদারকিতে কাজ শুরু করতে চাইলে তাতে বাধা দেন স্থানীয় বাহার উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন গং। তারা তাদের বাড়ির গোয়াল ঘরের সামনে দিয়ে রাস্তা যেতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলে ইট বিছানোর কাজ সম্পন্ন হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান দুই পাশে কিছু ইট রেখে রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে গেছে কে বা কারা।
ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুছ বলেন, রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার কথা শুনেছেন তিনি। যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা ভালো করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের কঠোর বিচার করা উচিত।
ইট বিছানো কাজের সভাপতি জুম্মন ভূঁইয়া সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তায় ইট বিছানোর কাজটি করা হয়েছে। তাঁর দাবি– যারা বাধা দিয়েছিল, তারাই ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত।
বার বার চেষ্টার পরও অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা।
নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহীদুল্লাহ জানান, ওই কাজের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল, পরে চাল বিক্রির টাকা দিয়ে কাজটি করা হয়েছে। কাজের শুরুতে কেউ বাধা দিয়েছিল কিনা, তা তিনি জানেন না। তবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোক মারফত ইট তুলে নেওয়ার খবর পেয়েছেন। বিষয়টি তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে প্রতিকার দাবি করেছেন।
- বিষয় :
- লুটপাট