ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী আহতের জেরে সাড়ে তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

শিক্ষার্থী আহতের জেরে সাড়ে তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ
×
×

অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছিল যানশূন্য। লোকজনকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় সমকাল

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার জেরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তার সহপাঠীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা তারা মহাসড়কের উভয়পাশ অবরোধ করে রাখেন। এতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত আব্দুল্লাহ আল জাবির (১৭) ওই মাদ্রাসার আলীম প্রথম বর্ষ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুর ১টার দিকে গাজীপুরা এলাকায় মাদ্রাসা ছুটির পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় জাবিরকে একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহন হন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী একটি মাইক্রোবাস আব্দুল্লাহ আল জাবিরকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আগে তাদের প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে গাজীপুর-২ আসনের এমপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এক সপ্তাহের মধ্যে মহাসড়কের ওপর একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেটির কাজই হাতে নেওয়া হয়নি। গতকাল তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে আগামী রোববার ফুট ওভারব্রিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় পুলিশ।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাদের বুঝিয়ে সরানো হয়েছে। এতে বিকেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিক্ষার্থীদের অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়; দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনের শ্রমিকরা।
অবরোধের কারণে আটকা পড়া বাসযাত্রী মামুন হোসেন বলেন, আমি গাজীপুরের বোর্ডবাজার যাওয়ার জন্য রাজধানীর গুলিস্তান থেকে বাসে উঠি। দুপুর আড়াইটার দিকে উত্তরার আজমপুর এলাকায় বাস এসে থামে। ওখানে প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকার পর বাস থেকে নেমে হেঁটে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় আসি। এতদূর পথ হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ব্যথা হয়ে গেছে। তিনি জানান, তাঁর মতো অসংখ্য বাস যাত্রীকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

বলাকা পরিবহনের ঢাকাগামী যাত্রী মো. মানিক মিয়ার সঙ্গে কথা হয় বড়বাড়ি এলাকায়। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যেতে হবে। ৫০ মিনিট ধরে একই স্থানে বাসে বসে আছি। বাস এক চুল পরিমাণও সামনের দিকে যাচ্ছে না। কখন ঢাকায় পৌঁছাবে বলতে পারছি না। কিছু দিন পরপর একই জায়গায় একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু কোনো সমাধান হয় না।
মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাপ্তরিক কার্যক্রম কিছুটা এগোলেও বাস্তবায়নে নানা ধরনের টালবাহানা চলছে। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানে অবিলম্বে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
দীর্ঘ সময় অবরোধ চললেও পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরাতে ব্যর্থ হন। পরে সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে সরে যান।
 

আরও পড়ুন

×