ব্যানার-ফেস্টুনে সরব বিএনপি জামায়াত যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি
সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। সম্প্রতি তোলা সমকাল
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হবে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। কোন ইউপিতে কবে ভোট তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে সে জন্য বসে নেই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। হাটবাজার, সড়ক, অলিগলি ও প্রশাসনিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় বড় ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে সয়লাব করে ফেলেছেন তারা। একেকটি ইউনিয়নে দলটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৮ থেকে ১৩ জন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ব্যানার ফেস্টুন নেই, তারা কাজ করছে নীরবে। তাদের প্রার্থী ঠিক করাই আছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করছেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১২ অক্টোবর ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের প্রথমটি হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। কবে কোন ইউপিতে নির্বাচন হবে ইসি সেটি এখনও না জানালেও সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের ছবি সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন গাছে গাছে, দেয়ালে, বাঁশের খুঁটিতে টানিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। কেউ কেউ ভোটারদের সমর্থন চেয়ে উঠান বৈঠক করছেন। সামাজিক মাধ্যম ছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠান, সুন্নতে খৎনা ও শুক্রবার মসজিদে গিয়েও ভোটারের সমর্থন চাইছেন।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের কারেও কোনো ব্যানার ফেস্টুন নেই। প্রতিটি ইউনিয়নেই দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী ৮ থেকে ১৩ জন। প্রতিটি ইউনিয়নের একেকটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থীও রয়েছেন। তাদের প্রায় সবাই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদবিধারী নেতা।
বিএনপির এত প্রার্থী নিয়ে উপজেলায় আলোচনা ও সমালোচনারও কমতি নেই। দলটির মধ্যেও এ নিয়ে নানা আলোচনা আছে। স্থানীয়রা বলছেন, এক দলে এত বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনই একে অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচন ঘিরে চাঙা হচ্ছে অন্তর্কোন্দল। শেষ পর্যন্ত দল কোনো একজনকে সমর্থন দিলেও বাকিরা সেটি মেনে নেবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি সামাল দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা আছে বিভিন্ন মহলে। সে রকম পরিস্থিতি হলে তা ভোটের বাক্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, একক প্রার্থী থাকায় জামায়াত ভালো অবস্থানে থাকবে।
জানা গেছে, দল ও দলের বাইরে আলোচনা সমালোচনা থাকলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার কথা বলছেন।
সাটুরিয়া উপজেলায় বর্তমানে বিএনপির কমিটি নেই। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা যাকে সমর্থন দেবেন সেই দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত কেউ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হতে পারে। তাঁর দাবি শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে বিএনপির একজন করেই প্রার্থী থাকবেন। বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটিও দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখে জনগণ যাকে চাইছে তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া হবে।
নির্বাচন করতে চান আ.লীগের চেয়ারম্যানরা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলার আসামি। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই এলাকা ছাড়া। দলটির কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। উপজেলায় বর্তমানে ৯ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে আটজন আওয়ামী লীগ দলীয়। তাদের মধ্যে একজন পলাতক। বাকিরা এলাকায় অবস্থান করছেন। যোগাযোগ করা হলে তাদের দুজন বলেন, সরকার যদি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দেয়, তাহলে তারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। তারা আশাবাদী নির্বাচন করতে পারলে তারাই পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
জামায়াত প্রার্থীরা যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি
জামায়াত ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আটটিতে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। শুধু বালিয়াটি ইউনিয়নে এখনও প্রার্থী ঠিক করা হয়নি। এসব প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন।
জামায়াতের সাটুরিয়ার আমির আবু সাঈদ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতের একজন করে প্রার্থী থাকবেন। দলের নির্দেশনা বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীদের কোনো প্রচার নেই কেন– জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী মাঠে থাকতে। তারা ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন, ভোট চাইছেন।
- বিষয় :
- বিএনপি