ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’ বলে পালিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা

পাবনায় প্রকাশ্যে জোড়া খুন

‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’ বলে  পালিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা
×
×

পাবনা অফিস 

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিট। পশ্চিম দিক থেকে কাপড়ে মুখ ঢাকা ছয় থেকে সাতজন অস্ত্রধারী ঘটনাস্থলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এক মিনিটের মধ্যে দুজনকে গুলি করে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তারা একই দিকে পালিয়ে যায়। 

পাবনার জেলা সদরের আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে গুলি করে দুজনকে হত্যার ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এই চিত্র দেখা যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাশের এক দোকানি বলেন, অস্ত্রধারীরা ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’ বলতে বলতে পালিয়ে যায়। 
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ওই ঘটনায় নিহত দুজন হলেন–কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের পাবনা সদর উপজেলার আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৫) ও তাঁর ভাগনে আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৩৭)। নিহত সালাম পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল ও সভা-সমাবেশে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। 
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলাও দায়ের করা হয়নি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 

এলাকাবাসী জানান, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় একই হাটে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। প্রায় ১২ বছর পর একই বাজারে আবারও প্রকাশ্যে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মনে পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে। 
নিহত আব্দুস সালামের বড় ভাই আব্দুল কালাম জানান, তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ২০১৪ সালে চারজন হত্যার ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কারাগারে থাকলেও তাঁর নামেও মামলা দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবারকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। 

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভাইয়ের দাফন-কাফন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজ (শুক্রবার) রাতেই আইনগত ব্যবস্থা নিব।’ 
এদিকে, একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির নেতা আনিছুল হক বাবু। তিনি সমকালকে বলেন, নিহত রিপন গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে নানা ধরনের জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

আরও পড়ুন

×