ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনায় নিহত জেলেকে গুলি করল কে?

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের অভিযোগ– গুলি করেছে চাঁদপুর নৌ পুলিশ

মেঘনায় নিহত জেলেকে গুলি করল কে?
×
×

প্রতীকী ছবি

 বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে আকতার হোসেন (৪০) নিহত হওয়ার ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ। তবে গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়নি। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার ভোরে আকতারসহ অন্য জেলেদের লক্ষ্য করে কারা গুলি ছুড়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের অভিযোগ, চাঁদপুর নৌ পুলিশ গুলি ছুড়েছিল। তবে চাঁদপুর নৌ পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলছে, হিজলা তাদের আওতাভুক্ত এলাকা নয়। তাই সেখানে তাদের দলের অভিযানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
নিহত আকতার হোসেন মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। তাঁর মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের পর গতকাল রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পর রাতেই মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

দেশে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদনদী ও সাগরে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা গতকাল মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। নিহত আকতারের সঙ্গে থাকা জেলেরা জানান, প্রতিবছরই মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার এক দিন আগে প্রশাসন ঢিলেঢালা অভিযান চালায়। এ কারণে তারা এক দিন আগেই বৃহস্পতিবার শেষরাতে মাছ ধরতে মেঘনায় নামেন।

একই ট্রলারে থাকা জেলে ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বেপারী বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে তারা ১৩ জন একটি ট্রলারে করে মেঘনায় মাছ ধরতে যান। তীর থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রলার চলার পর হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের ওরাকুল মাছঘাট-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। সেখানে একটি ট্রলার তাদের কাছে আসে। আকস্মিকভাবে ওই ট্রলার থেকে তাদের দিকে গুলি ছোড়া হয়। এতে আকতারসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। আকতার লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আব্দুল বেপারীর দাবি, চাঁদপুর নৌ পুলিশের একটি অভিযানকারী দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে কীভাবে ওই দলকে চাঁদপুর নৌ পুলিশ হিসেবে শনাক্ত করেছেন– জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুলিবর্ষণের পরপরই কিছুটা দূরে আরেকটি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জেলেকে আটক করে চাঁদপুরে নিয়ে যান নৌ পুলিশের সদস্যরা।

মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাঁকে মেঘনা নদীতে একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনিক বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আকতারকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাঁর মুখ, বুক ও হাতে অসংখ্য ছররা গুলির ক্ষত ছিল। আমরা তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। তবে তিনি পথে মারা যান। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে পরীক্ষা করে মৃত পাই।’

এদিকে চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘হিজলা তাদের আওতাধীন এলাকা নয়। ফলে সেখানে তাদের দলের অভিযান চালানোর প্রশ্নই আসে না।’ হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো অভিযানকারী দল ওই সময় নদীতে ছিল না। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।’

নৌ পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের এসপি এসএম নাজমুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তাঁর আওতাধীন নৌ পুলিশের কোনো অভিযান হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে ছিল না।’ এদিকে এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর সেদিন কোস্টগার্ড কোনো অভিযান চালায়নি বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, ‘ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার শেষ রাতে। এ ঘটনায় কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না। যে ট্রলারে ঘটনা ঘটেছে, সেই ট্রলারের জেলেরা কোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন না। তাদের কল করা হলেও রিসিভ করছে না।’

আকতার নিহতের ঘটনায় গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে আব্দুল বেপারী তাঁর স্বজনের বরাতে বলেন, রাতে মরদেহ দাফন করার পর মামলা করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হিজলা থানার ওসি সোলাইমান হোসেন জানান, নিহতের পরিবার গতকাল রাত পর্যন্ত থানায় যোগাযোগ করেনি। বৃহস্পতিবার করা অপমৃত্যুর মামলার ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করেছে।

আরও পড়ুন

×