ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণচেষ্টা

মামলার আসামি গ্রেপ্তার, উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুকে ঢাকায় প্রেরণ

মামলার আসামি গ্রেপ্তার, উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুকে ঢাকায় প্রেরণ
×
×

প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০৩:০৫

টাঙ্গাইলে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি বিপ্লবকে (২২) গতকাল রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই দিন গুরুতর আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার এক পর্যায়ে তার মুখ ও নাকে ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার বিপ্লব টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পূর্ব আদালতপাড়া (চৌধুরী বাজার) এলাকার বাসিন্দা। গতকাল দুপুরে শহরের কলেজপাড়া পার্ক বাজার মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় লোকজন তাকে গণধোলাই দেন। পরে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান বলেন, শুক্রবার ঘটনা ঘটার পর থেকেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন। পুলিশের সোর্স (তথ্যদাতা) প্রথমে আসামিকে শনাক্ত করে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিপ্লব সোর্সের হাতে কামড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, শিশুটির মায়ের সঙ্গে বিপ্লবের পূর্বপরিচয় ছিল। সেই সূত্রে তিনি শিশুটির মায়ের দোকানে যাতায়াত করতেন। বিপ্লব মাদকাসক্ত। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলের দিকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান বিপ্লব। পরে টাঙ্গাইল শহরের একটি ভবনে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি বাধা দিলে ইট দিয়ে তার মুখ থেঁতলে দেন তিনি। পরে এক রিকশাচালক গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী শনিবার বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে মেডিকেল টিমের সদস্যরা যে আলামত পেয়েছেন, তাতে বলা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার নাক ফেটে গেছে। ঠোঁটে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার নাক ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ মুক্তার সমকালকে বলেন, আসামিকে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাল (আজ) সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্বও নেন তিনি।

আরও পড়ুন

×