ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে চাঁদা তুলে খেলার মাঠ

আরও ১২০ শতাংশ জমি ও অবকাঠামো করে দেবে সরকার

আরও ১২০ শতাংশ জমি ও অবকাঠামো করে দেবে সরকার
×
×

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০০:২৯

নিজ উদ্যোগে চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জমি কিনেছিলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের মানুষ। এবার সেই মাঠে অবকাঠামো নির্মাণ ও আরও ১২০ শতাংশ জমি কিনতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার দুপুরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে গ্রামবাসীর প্রতিনিধি দল, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সঙ্গে এক বৈঠকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। 

গ্রামের ধনী-গরিব সবাই মিলে কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে ৫৯ শতাংশ জমি কেনেন। জমির মালিক আরও এক শতাংশ দান করেছেন। সব মিলিয়ে এখন জমি আছে ৬০ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার বাদ্য বাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই জমি বুঝে নেন গ্রামবাসী।

সংবাদটি প্রকাশের পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান। 

গতকাল মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান, দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী, গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি খোরশেদ আলম, আজহার শিকদার, মাইন শিকদার এবং মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি। বৈঠকে বাবুপুর গ্রামে একটি মানসম্মত মাঠ গড়তে কত জমি ও অর্থ প্রয়োজন, তা শোনেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। 

বৈঠকের পর মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ মাঠের জন্য প্রায় ১৮০ শতাংশ জমির প্রয়োজন। বর্তমানে ৬০ শতাংশ জমি আছে। বাকি ১২০ শতাংশ জমি কেনা ও অবকাঠামো তৈরিতে মন্ত্রীর এই ঘোষণা গ্রামবাসীকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি এবং তাদের মাদকমুক্ত রাখতে এই মাঠ বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, গ্রামের বিত্তশালী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই এই উদ্যোগে অংশ নেন। সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ ২০০, ৫০০, এক হাজার আবার কেউ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রামবাসী বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে জমিটি বুঝে নেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং যুবকরা অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন।

আরও পড়ুন

×