ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

চুয়েটে উপাচার্যের ১ দিনের রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক দেলোয়ার, প্রতিবাদে শাটডাউন ঘোষণা

চুয়েটে উপাচার্যের ১ দিনের রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক দেলোয়ার, প্রতিবাদে শাটডাউন ঘোষণা
×
×

চুয়েট সাংবাদদাতা

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৭

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ায় তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার এক ই-মেইল বার্তায় রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি জানানো হয়। ওই বার্তায় উপাচার্য উল্লেখ করেন, ২ নভেম্বর ইউজিসির একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে তাঁর নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ১ নভেম্বর বিকেল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন ‘এটি একটি রেগুলার ইস্যু’ বলে কল কেটে দেন। 

এর আগে, যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকা গমন করছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।

রুটিন উপাচার্য নিয়োগে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

উপাচার্যের পরিবর্তে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ১ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল ২ নভেম্বর একদিনের সর্বাত্মক অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তাঁরা। এদিন সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত যেকোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতিকে পুনরায় অস্থিতিশীল করতে পারে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যথায় দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে আরও কঠোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

৪০ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর আজ (১ নভেম্বর) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। গত ২২ সেপ্টেম্বর উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৪০ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ৪১তম দিনে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার নতুন পথ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা এবং উপাচার্য পূনর্বহালের দাবিতে মিছিল

চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা নিরসন ও আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় সভা করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন বর্ষ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সভায় আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ইউজিসির কমিটি আমাদের যে হুমকি দিয়ে গিয়েছে, এ ধরনের কথাবার্তা বলে আমাদের আন্দোলন কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। বর্তমান সরকার যথেষ্ট ছাত্রবান্ধব সরকার। কিন্তু আজ দীর্ঘ ৪০ দিন পার হলেও আমরা কোনো ধরনের সমাধান পাচ্ছি না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, যে অবৈধ সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ইউজিসির কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির সঙ্গেও আমরা বসেছি। কিন্তু আমাদের প্রতি তাঁদের আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। তাঁরা সরাসরি বলেছেন, আমাদের ভবিষ্যৎ নাকি অন্ধকার, এমনকি আমাদের টিস্যু কেনার টাকাও তাঁরা দেবেন না। তাঁদের এমন বক্তব্যে আমরা আশাহত হয়েছি। এ সমাধান যত দীর্ঘায়িত হবে, আমরা তত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন। ১২ অক্টোবর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে এসে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে ১৬ অক্টোবর সার্কিট হাউস থেকে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য। ওই সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। ২৮ অক্টোবর থেকে কয়েকটি বিভাগে সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হলেও ১ নভেম্বর থেকে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি এবং নতুন উপাচার্যের প্রতি অসহযোগের অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসেননি।

আরও পড়ুন

×