ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পার্লার কর্মীকে হত্যা করে ড্রামে ভরে খালে নিক্ষেপ

পার্লার কর্মীকে হত্যা করে ড্রামে ভরে খালে নিক্ষেপ
×
×

গ্রেপ্তার ৪ জনের দু’জন

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:১৭

পারিশ্রমিক নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে খুন হন পার্লার কর্মী ঝিনুক আক্তার। পরে মরদেহ গুম করতে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফেলা হয় খালের পানিতে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে শেরপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের কুড়েমনি খালে ভাসমান ড্রাম থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় গত ২২ অক্টোবর। পরে পিবিআই সদস্যরা মৃত ঝিনুক আক্তারের (২৬) পরিচয় শনাক্ত করেন। ভুক্তভোগী গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বসবাস করতেন; পেশায় পার্লার কর্মী। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন তাঁর ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, তাদের ক্রাইমসিন টিম প্রথমে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। তত্ত্বাবধানে ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত আইজি মোস্তফা কামাল (বিপিএম-সেবা)। তদন্তের শুরুতে তারা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের দিঘল গ্রামের নুর ইসলাম বাবুর জড়িত থাকার তথ্য পান। তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর তথ্য মতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের সজল মিয়া, শ্রীবরদী উপজেলার গরজরিপা গ্রামের নুর মোহাম্মদ গোসা এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী মাহবুবা আক্তার ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার ভোরে ডিএমপির উত্তরখান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসপি পংকজ দত্ত জানান, ঘটনার রাতে চার আসামি ঝিনুককে নিয়ে দক্ষিণখান থানার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাল্টি গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে আ. সাত্তারের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া জুয়েলের কক্ষে যান। সেখানে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান ভুক্তভোগী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামি মাহবুবা আক্তার ফাতেমা এক হাজার ২০০ টাকা ঝিনুকের হাতে দেন। কিন্তু অল্প টাকা দেখে ঝিনুক চিৎকার শুরু করলে আসামি ফাতেমা ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে কোপাতে থাকেন। এ সময় ঝিনুক মাটিতে পড়ে গেলে অন্য তিন আসামি তাঁর হাত-পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত গাড়িতে নিয়ে শেরপুরের কুড়েমনি খালে ফেলে দেন।

পিবিআই সুপার বলেন, আসামি নূর ইসলাম বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। 

আরও পড়ুন

×