ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

বড়লেখায় ‘জিন্নি হুজুর’-এর নামে প্রতারণা, চারজন গ্রেপ্তার 

৫ ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার 

বড়লেখায় ‘জিন্নি হুজুর’-এর নামে প্রতারণা, চারজন গ্রেপ্তার 
×
×

ছবি-সংগৃহীত

মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:২২

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ‘জিন্নি হুজুর’-এর নামে অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে এক গৃহবধূর কাছ থেকে ৫ ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–করবুল নেছা (৬০), তাজ উদ্দিন (৪৫), বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও রিপন মিয়া (৩৮)। গত রোববার বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ওজনের আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে জিন্নি হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী বসতঘরের পেছনে গভীর নলকূপের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি বাটিতে স্বর্ণালঙ্কার রেখে আসেন। কয়েক ঘণ্টা পর রোকেয়া সেখানে গিয়ে দেখেন, স্বর্ণালঙ্কারগুলো নেই। পরে ওই নারীকে তিনি ফোন করলে জানানো হয়, ‘জিন্নি মুমিন’ স্বর্ণালঙ্কারগুলো নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পাবেন। এর কিছুদিন পর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে রোকেয়াকে আরও স্বর্ণালঙ্কার একই স্থানে রাখতে বলেন। স্বর্ণালঙ্কার না রাখলে তাঁর ছেলে পাগল হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। আর স্বর্ণালঙ্কারগুলো রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালঙ্কারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে তাঁকে আশ্বাস দেন ওই নারী। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় গৃহবধূ দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালঙ্কার রেখে আসেন। এবারও স্বর্ণালঙ্কারগুলো ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগী স্বজনদের পরামর্শে থানায় অভিযোগ দেন। 

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। 

ঘটনা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×