ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

রাসায়নিকের সঙ্গে সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হয় ব্র্যান্ডের প্রসাধনী

রাসায়নিকের সঙ্গে সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হয় ব্র্যান্ডের প্রসাধনী
×

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলকায় একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:০০ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৫

একটি পাত্রে নানা রকমের রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে তুলে দেওয়া হয় চুলায়। দীর্ঘ সময় তা সিদ্ধ করা হয়। এক পর্যায়ে চুলা থেকে নামিয়ে আনা হয় রাসায়নিকের ঘন দ্রবণ। ঠাণ্ডা হওয়ার পর সেগুলোয় মেশানো হয় বিভিন্ন সুগন্ধি। এর পর সুদৃশ্য বোতলে ভরে দিলেই কাজ শেষ। 

এভাবেই রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে তৈরি হচ্ছিল নামি-দামি নানা 'ব্র্যান্ডের' প্রসাধন সামগ্রী! মঙ্গলবার রাতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় নকল প্রসাধন তৈরির এসব কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় জব্দ করা হয় প্রায় আট কোটি টাকার প্রসাধন সামগ্রী। পাশাপাশি ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ১৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ছয়টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, শিশুদের ব্যবহার্য লোশন, তেলসহ নানা রকম নকল প্রসাধন তৈরি করে আসছিল অসাধু চক্রটি। সেখানে তৈরির পর পণ্যগুলো পাঠানো হতো পুরান ঢাকার চকবাজারে। এর পর তা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ত। এগুলো ব্যবহারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। বেশিরভাগ পণ্যই শিশুদের হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেশি। পাশাপাশি বেশি দামে এসব নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন ক্রেতারা।

র‌্যাব-১০ সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ও র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের সমন্বয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে  বুধবার ভোর পৌনে ৫টা পর্যন্ত চলে অভিযান। এ সময় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে নকল প্রসাধন তৈরি করতে দেখা যায়। জনসন বেবি লোশন, বেবি অয়েল, অলিভ অয়েল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ডাবর আমলা তেলসহ ২৬ ধরনের নকল পণ্য তৈরির কথা স্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত লাভের আশায় তারা এসব তৈরি করে বলে জানায়। 

এর সঙ্গে বাড়ির মালিকরাও জড়িত। পরে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারখানাগুলো সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস করা হয় বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য।

আরও পড়ুন

×