ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে সালিশে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

ফরিদপুরে সালিশে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা
×

আহতদের মধ্যে দু’জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে-সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৬

ফরিদপুরের সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান মিন্টুর ওপর হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা গ্রাম আদালতের কক্ষ ভাঙচুর করে। সে সময় আটজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শহরের সিঅ্যান্ডবি ঘাটের কাছে একটি খালের দখল নিয়ে হাসেম ফকিরের সঙ্গে স্থানীয় আনোয়ার হোসেন আবু ফকিরের দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি খালের বিষয়ে একটি মামলা হয়। সে মামলায় হাসেম ফকির নিজের পক্ষে রায় পান। দু'পক্ষকে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে সালিশে বসেন চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষিপ্ত হন আনোয়ার হোসেন আবু ফকির। এ সময় তিনি হুমকি দিয়ে সালিশ থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। এর কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু ব্যক্তি রড, হকিস্টিক, রামদা নিয়ে হামলা চালায় ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে। তারা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা চেয়ারম্যানের ভাই জাহাঙ্গীর ফকির, আলমগীর ফকির, সাব্বির ও ভাতিজা ইলিয়াসকে বেদম প্রহার করে। তাদের দু'জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবি পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হকিস্টিক, লাঠি ও রড উদ্ধার করে।

ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, আবু ফকিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। সালিশের সময় তারা তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। হামলাকারীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় তারা পালিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।

কোতোয়ালি থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) এনায়েত হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান।

এ হামলায় গুরুতর আহত চেয়ারম্যানের ভাই জাহাঙ্গীর ফকিরকে বুধবার রাতে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে সেখানে ভর্তি হয়েছেন হেলাল বেপারী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ। তাকে পিটিয়ে ও লাথি-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। বুধবার ঘটনার সময় স্থানীয়দের প্রহারে আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন আবুর ভাই বাবু ফকির ও তাবু ফকির।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন আবু ফকির বলেন, আমার কোনো লোক হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। উল্টো আমার লোকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সালিশের সময় সাব্বির নামে এক ব্যক্তি আমাকে কটু কথা বললে আমার কয়েক ভাই বিষয়টি ঠিক নয় বলে উত্তেজিত হলে আমি তাদের নিয়ে চলে যাই। পরে কারা হামলা করেছে আমার জানা নেই। হাসপাতালে এক বৃদ্ধের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন

×