‘ভার্চুয়াল মা-বাবার’ খোঁজে চীনের তরুণেরা
অনেক তরুণ অভিযোগ করেন, তাদের অভিভাবকেরা এখনো প্রচলিত মূল্যবোধ ও উচ্চ প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।
বিবিসি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:৩৩ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:৩৬
চীনে ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অনেক তরুণ-তরুণী বাস্তব জীবনের পরিবর্তে অনলাইনে ‘ভার্চুয়াল মা-বাবার’ কাছে মানসিক আশ্রয় খুঁজছেন। ডৌইন (চীনের টিকটক সংস্করণ) প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একদল কনটেন্ট নির্মাতা নিজেদের স্নেহশীল অভিভাবকের ভূমিকায় তুলে ধরছেন, যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তরুণদের মধ্যে।
ডৌইনে প্রায় ২০ লাখ অনুসারী নিয়ে পান হুচিয়ান ও ঝাং শিউপিং এ ধরনের কনটেন্ট নির্মাতাদের অন্যতম। ভিডিওগুলোতে তারা দর্শকদের উদ্দেশে মা-বাবার মতো স্নেহভরা কথা বলেন, খোঁজখবর নেন এবং মানসিক সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সাংহাইয়ের ৩৩ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী ভিনসেন্ট ঝাং বলেন, তার বাস্তব জীবনের বাবা-মা কখনো তাকে বলেন না যে তিনি যথেষ্ট ভালো বা নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতে। কিন্তু ‘ভার্চুয়াল মা-বাবারা’ অন্তত তার সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা চীনের তরুণ প্রজন্মের মানসিক চাপ ও পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। দেশটির দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে নতুন প্রজন্ম উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ পেলেও একই সঙ্গে বেড়েছে চাকরি ও সাফল্যের প্রতিযোগিতা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে তরুণদের বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। মন্থর অর্থনীতি ও চাকরির অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অনেক তরুণ অভিযোগ করেন, তাদের অভিভাবকেরা এখনো প্রচলিত মূল্যবোধ ও উচ্চ প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে কর্মজীবন, বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে পারিবারিক চাপ তাদের জন্য বাড়তি মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পান হুচিয়ান জানান, নিজের কঠিন শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। তার দাবি, ছোটবেলায় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পরও কখনো উৎসাহের কথা শোনেননি। তাই নিজের মেয়ের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তরুণদের একাংশ ‘গার্ড স্যুপ লিটারেচার’ নামে পরিচিত কিছু ভাইরাল মিমের মাধ্যমে অভিভাবকদের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের সমালোচনা করছেন। তবে সমালোচকদের মতে, অনলাইনের এই সম্পর্ক বাস্তব পারিবারিক বন্ধনের বিকল্প হতে পারে না। অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, বাস্তব জীবনে যে মানসিক সমর্থন অনেক তরুণ পাচ্ছেন না, তার কিছুটা হলেও পূরণ করছে এই ‘ভার্চুয়াল মা-বাবা’ সংস্কৃতি।
ভিনসেন্ট ঝাংয়ের ভাষায়, 'আমি জানি এসব কনটেন্টের বাণিজ্যিক দিক আছে। তবু আমি বিশ্বাস করি, সামান্য উষ্ণতাও কিছু না থাকার চেয়ে ভালো।'
- বিষয় :
- চীন
- মানসিক চাপ
- অনলাইন
