দেবিদ্বারে হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালাল স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:২৮
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিয়ের পাঁচ মাস না যেতেই লাশ হতে হলো এক গৃহবধূকে।চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর শুক্রবার বিকেলে ওই গৃহবধূর লাশ চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (২০)।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ও তার মা-বাবাকে অভিযুক্ত করে শনিবার সকালে মামলা করেন নিহতের বড় মামা মো. শাহ আলম। শনিবার সকালে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত গৃহবধূ দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. কবির হোসেনের মেয়ে জান্নাত আক্তার। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন একই গ্রামের আবদুল ওহাব মিয়ার ছেলে। এর আগে দুপুরে নিহত জান্নাতকে ঘরের সিলিংয়ে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করে স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ও তার বড় ভাই মো. দুলাল মিয়া। পরে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাশ দেবিদ্বার থানায় আনা হয়।
নিহতের মা হাসিয়া বেগম জানান, জান্নাত ও সাখাওয়াত পাঁচ মাস আগে প্রেম করে কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লা আদালতে গিয়ে বিয়ে করে। পরে সামাজিকভাবে দেনদরবারের পর উভয় পরিবার দু'জনের বিয়ে মেনে নিয়ে জান্নাতকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর সাখাওয়াতকে সৌদি আরবে পাঠাতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার দাবি করে সাখাওয়াতের মা-বাবা। হাসিয়া বেগম এত টাকা দিতে পারবেন না বলে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে জান্নাতের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ও তার মা-বাবা। এ নিয়ে জান্নাত ও তার স্বামী সাখাওয়াতের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।
- বিষয় :
- স্ত্রীর লাশ
- হাসপাতাল
- দেবিদ্বার
