ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটন

ভালো নেই কুয়াকাটা

ভালো নেই কুয়াকাটা
×
×

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত- সংগৃহীত

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৫:৩৬

সমুদ্রসৈকত সাগরকন্যা কুয়াকাটা ঘিরে পর্যটনের অনেক সম্ভাবনা থাকলেও উদ্যোগের অভাবে তা হচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনার কারণে সমুদ্রসৈকত ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে পর্যটনের সম্ভাবনাময় কুয়াকাটার অপরূপ সৌন্দর্য। এসব কারণে ভালো নেই সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

কুয়াকাটাকে আরও পর্যটনপ্রিয় করার জন্য সরকার সম্প্রতি পরিকল্পনা নিয়েছে। সাগরপাড়ে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে হাজার হাজার পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। এ লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে তিনশ কোটি টাকার ডিপিপি প্রস্তুত করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। আধুনিক টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ ভ্রমণপিপাসু পর্যটকের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ডিপিপিতে রাখা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের মে মাসে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালে কুয়াকাটা পৌরসভায় উন্নীত হয়। অথচ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের বাস থামার জন্য কোনো বাস টার্মিনাল নেই। ফলে বাসগুলো কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রধান রাস্তার মধ্যে সারি সারি করে রাখা হয়। অবকাঠামোর পর্যাপ্ত উন্নয়ন ও বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজন হলেও তা উপেক্ষিত। পর্যটকদের চলাচলে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। যে কারণে পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। অতীতের সরকারগুলো তেমন পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু আশ্বাসের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সৈকতের অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতওয়ারি সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশও দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অন্যান্য সমীক্ষা সম্পন্ন করে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। দ্রুতই এটি একনেকে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত ডিপিপিতে বলা হয়েছে, কুয়াকাটার সমুদ্রতীর ঘিরে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, আধুনিক পার্ক, ওয়াকওয়েসহ অন্যান্য বিনোদনমূলক ব্যবস্থা থাকবে। সৈকতের তীর উন্নত টেকসই করা হবে। সমুদ্রতীরজুড়ে যানবাহন চলাচলে টেকসই রাস্তা হবে। সৈকতের কাছাকাছি পর্যটকদের জন্য অত্যাধুনিক ওয়াশরুম, বসার স্থান, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি পার্কিং, তীরবর্তী এলাকায় বনায়নসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসংবলিত স্থাপনা করা হবে।

আশির দশক থেকে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণাঞ্চলের এই সমুদ্রসৈকত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে সৈকতটির শ্রীবৃদ্ধি হয়নি; নেওয়া হয়নি কর্মপরিকল্পনা। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। অথচ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের তীরের ঝাউবন প্রকৃতির অপরূপ এক সৌন্দর্য। যে কেউ বিমোহিত হবেন। একই স্থানে দাঁড়িয়ে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়, যা খুবই বিরল। এ ছাড়া এখানে রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ও তাদের ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটায় ছিল ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, যেখানে দেখা যেত বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ। বাগানে ছিল পাখির অভয়াশ্রয়; ছিল বন্য শিয়াল, বানর ও অন্যান্য প্রাণী। পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত গোটা স্থান। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাগরের অব্যাহত ভাঙনে সেই ফয়েজ মিয়ার বাগান বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। অবশ্য কুয়াকাটায় বাঁধ রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন এলাকা করতে আন্তরিক। এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই মধ্যে সৈকতের তীরে আধুনিক টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও অন্যান্য সুবিধাসহ ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। সাড়ে তিনশ কোটি টাকার ডিপিপি অনুমোদনের জন্য শিগগির একনেকের সভায় উপস্থাপন করা হবে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ সমকালকে বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখানে পর্যটন-সংশ্নিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। বিনিয়োগ বাড়বে। অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন

×