গুজবে ক্রেতার ভিড়, দোকান বন্ধ করে দিলেন লবণ ব্যবসায়ী
ক্রেতার চাপ সামলাতে না পেরে এক পর্যায়ে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয় -সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:৫৮ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:০৪
লবণের দাম বেড়ে যাবে- এমন গুজবে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বগুড়ায় হাট-বাজারের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। ক্রেতার চাপে এক পর্যায়ে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন অনেক বিক্রেতা। এছাড়াও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোন কোন পাইকারি দোকানে প্রতি বস্তা লবণের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েও যায়। তবে প্রশাসন ও পুলিশের অভিযান এবং জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রাজাবাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় পাঁচ দোকানিকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের বাজারে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের টিনপট্টিতে লবণের পাইকারি দোকান ‘মেসার্স এম আর ট্রেডার্স’-এর সামনে হঠাৎ করেই অর্ধশত লোকের ভিড় দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তারা সবাই লবণের পাইকারি ক্রেতা। কেউ ২ বস্তা আবার কেউ কেউ ৫ থেকে ১০ বস্তা লবণ কিনছেন। বাড়তি চাহিদার কারণে বস্তাপ্রতি লবণের দাম ৮০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়।
বগুড়া সদরের পল্লী মঙ্গল এলাকা থেকে আসা সাইফুল ইসলাম নামে এক দোকানি জানান, তিনি ৫ বস্তা লবণ কিনেছেন। কেন এত লবণ কিনলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লবণের মজুদ ফুরিয়ে যাবে বলে শুনছি। তাই কিনে রাখছি।’
এম আর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সৈকত জানান, বিকেলে হঠাৎ করেই তার দোকানে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে তিনি দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন। সৈকত বলেন, ‘লোকজন যে কেন ভিড় করছে বুঝতে পারছি না।’
রাজাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, বাড়তি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে পুলিশ ৫ দোকানিকে আটক করেছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, কেউ যাতে বাড়তি দামে লবণ বিক্রি করতে না পারে সেজন্য শহরের সব বাজারে পুলিশের একাধিক টিমকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, লবণ নিয়ে বাজারে যাতে কেউ গুজব সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তিনি এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দু’জনে শহরের ফতেহ্ আলী এবং রাজাবাজার পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিস থেকে শহরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, বাজারগুলোতে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ নিয়ে যারা গুজব সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আমরা জনগণকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’