চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হত্যা পূর্বপরিকল্পিত, মামলার চার্জশিট
মহিউদ্দিন সোহেল -ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:১৭
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সাবের আহাম্মেদসহ ৫২ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন।
গণপিটুনিতে মহিউদ্দিন সোহেলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রথম দিকে জানিয়েছিল পুলিশ ও স্থানীয়রা। জানা গেছে, গণপিটুনি নয়, পাহাড়তলী বাজার এলাকায় কাউন্সিলর সাবের আহাম্মেদ ও জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের সহসভাপতি ওসমান খানের আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে মহিউদ্দিন সোহেলকে তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহসভাপতি ওসমান খান, শাহাদাত খান রাসেল, মোহাম্মদ শওকত খান রাজু, শরীফ খান, আব্দুর রহমান ওরফে সৈয়দ, সালাউদ্দিন ওরফে রাসেল মির্জা, আব্দুল আল মামুন ওরফে জুয়েল মির্জা, আজাদ হোসেন আজাদ, দিদারুল আলম, নুর মোহাম্মদ, মামুন, মাকসুদুর রহমান বাবু, মঞ্জুর আলম, আলাউদ্দিন, নুর নবী তালুকদার, আলাউদ্দিন মনা, পারভেজ, বুলবুল আহমেদ ওরফে গুইল্ল্যা মিয়া, মোবারক হোসেন, শরিফুল আলম স্বপন, লিটন ওরফে লিটন দেওয়ান, মোহাম্মদ মহসিন, ফকির আহাম্মদ ওরফে ফকির ভান্ডারী, আলী ভান্ডারী, আব্দুর রশীদ মাঝি, সাহাবউদ্দিন, রেদোয়ান ফারুক, খাজা খাইরুদ্দিন খান ছোটন, সিরাজ ওরফে মাঝি প্রমুখ।
অভিযোগ থেকে চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- মনার বাপ, জাবেদ হোসেন ওরফে কালো জাবেদ, হালিম ওরফে আকাশ ও সোহেল। তাদের মধ্যে মনার বাপ ও অভিযুক্ত ফকির ভান্ডারী একই ব্যক্তি। তাই বাদ দেওয়া হয়েছে। জাবেদ হোসেন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। অন্য দুইজনের সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পেয়েছি। যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।'
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জহির হোসেন সমকালকে বলেন, 'অভিযোগপত্রে ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৫ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক আছে ১৭ আসামি।'
গত ৭ জানুয়ারি সকালে নগরের পাহাড়তলী বাজারে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেলকে কুপিয়ে ও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরদিন ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সোহেলের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির।
- বিষয় :
- মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা
- চট্টগ্রাম
