ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বিকল্প

বারির 'পাতা পেঁয়াজ'

বারির 'পাতা পেঁয়াজ'
×

ইজাজ আহ্‌মেদ মিলন, গাজীপুর

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:০৯

পাতা পেঁয়াজ একটি মসলা জাতীয় ফসল। সাইবেরিয়া ও চীনে এর উৎপত্তিস্থল হলেও বর্তমানে জাপান, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, ভারত, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে উৎপাদন হচ্ছে। এসব দেশে পাতা পেঁয়াজ বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে এ মসলা বিভিন্ন নামে পরিচিত। স্বাদ ও গন্ধ প্রায় সাধারণ পেঁয়াজের মতোই। এ জাতীয় পেঁয়াজে সাধারণ বাল্ক্ব পেঁয়াজের মতো বাল্ক্ব উৎপাদন হয় না। এর মূল বা হলুদ পাতা ছাড়া ফুলের দণ্ডসহ সব অংশই বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যকে রুচিকর ও সুগন্ধপূর্ণ করে তোলে। এ পাতা পেঁয়াজ সালাদ হিসেবে কাঁচা অথবা বিভিন্ন তরকারি ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সেদ্ধ করে খাওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত সাদা মোটা সিউডোস্টেম মাংস বা অন্যান্য তরকারিতে এবং সবুজ পাতা সালাদ হিসেবে অথবা সুপ, নুডলস, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি খাবারকে সুগন্ধ করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। বাংলাদেশে পাতা পেঁয়াজ খুব একটা চোখে পড়ে না। বিভিন্ন বসতভিটার আঙিনায় দু-একটি জন্মালেও এর ব্যাপকতা নেই। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা বিদেশি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার মাধ্যমে দেশে চাষ উপযোগী করে পাতা পেঁয়াজের একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে 'বারি পাতা পিঁয়াজ-১'। বারি সূত্র জানায়, বসতভিটাসহ মাঠপর্যায়ে এটি সারা বছর চাষ করা সম্ভব। এ ছাড়া বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে টবেও চাষ করা যায়। পাতা পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে একদিকে সাধারণ বাল্ক্ব পেঁয়াজের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করা যাবে, অন্যদিকে সাধারণ বাল্ক্ব পেঁয়াজের সঙ্গে সংকরায়ণের মাধ্যমে রোগমুক্ত উন্নত জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

গবেষক দলের প্রধান বারির ফরিদপুর মসলা গবেষণ উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. আলাউদ্দিন খান বলেন, এ প্রজাতির গাছের মূলত দুটি অংশ- সবুজ পাতা ও সাদা মোটা সিউডোস্টেম। তবে সাদা সিউডোস্টেমের গোড়ায় বাল্ক্বের মতো বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। এ প্রজাতির গাছ বহুবর্ষজীবী। বীজ সংগ্রহের পর আবার কুশি উৎপাদনের মাধ্যমে রেটুন ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। বীজ বা কুশির মাধ্যমে পাতা পেঁয়াজের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এ ফসলটির কুশি উৎপাদনের প্রবণতা খুবই বেশি। সাদা সিউডোস্টেমের তুলনায় সবুজ পাতায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। এর অনেক ঔষধি গুণও রয়েছে। পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।

তিনি বলেন, মাথাব্যথা, বাতের ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে উপশমে সহায়তা করে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এ পেঁয়াজ খেলে রোগ থেকে উপশম পেয়ে থাকেন। সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে গোছা আকারে পাতা পেঁয়াজের যথেষ্ট আকর্ষণ রয়েছে। পাতা পেঁয়াজ সব ধরনের মাটিতে জন্মে থাকে। তবে বেলে, দোআঁশ ও পলি-দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়। মে-জুন বা অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করা হয়। সারি পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি হেক্টর জমির জন্য চার-পাঁচ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। তবে ছিটিয়ে বপন করলে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ কেজি দরকার হয়। চার বছর আগে পাতা পেঁয়াজের জাতটি উদ্ভাবন করা হলেও তা এখনও ব্যাপকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়নি। তবে এই কর্মকর্তার প্রত্যাশা, অচিরেই বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ শুরু হবে।

আরও পড়ুন

×