ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শুভ উদ্যোগ

সিলেটে বিনামূল্যের 'টিউশন সেবা'

সিলেটে বিনামূল্যের 'টিউশন সেবা'
×

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:০৪

সিলেট শাহি ঈদগাহ মাঠের পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখা গেল বেশ কিছু শিক্ষার্থী গোল হয়ে বসে আছে। কিছু যুবক তাদের পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করে জানা গেল এখানে পড়তে আসা অধিকাংশ শিক্ষার্থী অসচ্ছল পরিবারের। তাদের বিনামূল্যে পড়ান সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এসব শিক্ষার্থী ফ্রি টিউশন সেবা দিয়ে থাকেন অসহায় অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের। তাদের সংগঠনের নামও 'টিউশন সেবা'। এভাবে বছরখানেক ধরেই চলছে তাদের কার্যক্রম। কিছুদিনের মধ্যে সিলেট বিভাগজুড়েই শুরু হবে তাদের এই কার্যক্রম। অনলাইনেও তারা আট হাজার শিক্ষার্থীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

টিউশন সেবার কর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ব্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সাধারণ কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টিউশন বাণিজ্যের প্রতিবাদে গড়ে তোলেন টিউশন সেবা। তাদের এই প্রতিবাদ গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে; বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে পড়ানোর নামে কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে। সে সময় ৫০ জন মিলে সিদ্ধান্ত নেন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কোচিং করানো হবে।

সেই থেকেই তারা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিউশন করাচ্ছেন।

টিউশন সেবার পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, তাদের টিমে ৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সবাই শাবি. সিকৃবি, ওসমানী মেডিকেল কলেজ, এমসি কলেজ. সিলেট সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন। তিনি নিজেও শাবি থেকে মাস্টার্স শেষ করে এখন এখানে সময় দিচ্ছেন।

আরেক পরিচালক আব্দুল্লা আল মামুন সুজন বলেন, তারা এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানসহ অনেকেই আসেন বিনামূল্যে কোচিং করতে। টিমের সব সদস্যই তাদের সেবায় নিবেদিত। তিনি বলেন, 'আমরা যারা লেখাপড়ার শেষ পর্যায়ে আছি তারা শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি কোচিং কী জিনিস। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে এর শিকার না হয়, সেজন্যই এই উদ্যোগ।'

শাহি ঈদগাহ মাঠে কথা হয় শাহি ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাকি বেগমের সঙ্গে। সে জানায়, তারা বাবা একজন মুদি দোকানদার। চার ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। বাবার সামান্য আয়। তাই তাকে কোচিং করাতে পারছিলেন না। একদিন বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে সে দেখতে পায় শাহি ঈদগাহ মাঠে কিছু ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করানো হচ্ছে। বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি তাকে টিউশন সেবায় নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন

×