জমিজমা দখল করে আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়কে দেশত্যাগের হুমকি
রোববার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সংবাদ সম্মেলন -সমকাল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:২৭ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:৪৩
দেশে আছে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী কড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার। যার সংখ্যা ২০ এরও কম, তাদের বসবাস দিনাজপুরের বিরলে। আর এই কয়েকটি পরিবারের জমিজমা দখল করে তাদের উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে হয়েছে হামলা। এমন অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধের পথে ওই সম্প্রদায়ের শিশুদের। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অবিবাহিত মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে কড়া সম্প্রদায়ের তথ্যানুসন্ধানে নিয়োজিত নাগরিক দল এসব অভিযোগ করেন। শনিবার আদিবাসী কড়া সম্প্রদায় ও বিবাদীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে ওই দল। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিরলের আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য বিনিময়ের উদ্দেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক মুজিব মেহদী। এ সময় কড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দীন খান, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের দীপায়ন খীসা, কবি ও লেখক মাসুদুল হক, নিউএজ এর সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভাবনার প্রধান নির্বাহী মুস্তাফিজুর রহমান রুপম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, কড়া সম্প্রদায়ের মুক্তিযোদ্ধা কিনু কড়া, ছুনিয়া কড়া, সতল কড়া, কুলু কড়া প্রমুুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি বছরের ৬ মার্চ বিরল উপজেলার ১০নং রানীপুকুর ইউনিয়নের ঝিনাইকুড়ি হালজা গ্রামে আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। পরিকল্পিত হামলায় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ঘটনার ৮ মাস অতিবাহিত হলেও আদিবাসীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাঝে বসবাস করতে হচ্ছে। ওই সময়ে দুষ্কৃতিকারীরা মেয়েদেরও হুমকি দেয়। নিরাপত্তাহীনতায় তাদের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারীদের কবল থেকে তিন মাস বয়সী শিশুও রেহায় পায়নি। হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি কামরুজ্জামান ওই শিশুর বুকে পা দিয়ে নির্যাতন করেছে। হামলার পর ভয়ে ৮ম শ্রেণির আট শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এরমধ্যে একজন স্কুলে যেতে শুরু করেছে। এই ঘটনার পর কাজকর্ম ও জমিতে চাষ দিতেও দুষ্কৃতিকারীরা বাধা দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কড়াদের দেশত্যাগে বাধ্য করে জায়গা-জমি দখল করাই একটি গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। জমি সংক্রান্ত বিবাদে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আযমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে মামলায় তার নাম নেই। ওই চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জমি ক্রয়ের জন্য ১৭ লাখ টাকা তিনি কামরুজ্জামানকে দিয়েছিলেন। আর চেয়ারম্যানকে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে হামলাটি করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ বানোয়াট বলেছেন প্রধান আসামি কামরুজ্জামান। এদিকে চার্জশিট হয়ে গেলেও মামলার বাদী কৃষ্ণ কড়া এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তিনি মামলা-হামলা থেকে রেহাই পেতে চান, একটু শান্তিতে থাকতে চান। ঝিনাইকুড়ি-হালজায় গ্রামের আদিবাসী কড়াসহ প্রান্তিক জনগণের ভূমি সংকট নিরসনে সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করা কথাও বলেন তিনি। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান কৃষ্ণ কড়া।
- বিষয় :
- কড়া আদিবাসী
- দিনাজপুর
