ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

কাল সম্মেলন

পুরোনো না নতুন নেতৃত্ব আসছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে

পুরোনো না নতুন নেতৃত্ব আসছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে
×

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২০

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। এতে নেতৃত্ব পেতে প্রায় এক ডজন নেতা এখন মুখিয়ে আছেন। রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা সংবলিত জীবনবৃত্তান্ত বানিয়ে তারা ছুটে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। শুধু তাই নয়, তা বিলি করছেন সংবাদকর্মীদের কাছেও। চলছে ফেসবুকেও প্রচারণা।

২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহী আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে সভাপতি ও আসাদুজ্জামান আসাদকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের নেতৃত্বেই গঠিত হয় ৭১ সদস্যের জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

শুরুতে সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুকে সমর্থন করলেও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারকে সমর্থন করেন। এতে করে ভুলু পরাজিত হন। পরবর্তী সময়ে দুই নেতার দ্বন্দ্ব ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে আসে। ওমর ফারুক চৌধুরীর আসনসহ প্রায় সব আসনেই সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের অনুসারীরা নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। লবিং-গ্রুপিংয়ে জর্জরিত হয়ে ওঠে জেলা আওয়ামী লীগ। চলে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। ওমর ফারুক চৌধুরীর শহীদ বাবাকে 'রাজাকার' বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান আসাদ। আর আসাদকে 'চাঁদাবাজ' এবং সংগঠনের বিভাজন সৃষ্টিকারী বলে মন্তব্য করেন ফারুক চৌধুরী। দুই নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে দু'বার জেলা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্রে তলব করা হয়। সংগঠনে গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করায় গত বছর আসাদুজ্জামান আসাদকে শোকজও করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এসব কারণে দীর্ঘদিন ফারুক চৌধুরী নগরীর লক্ষ্মীপুরের জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়েও যাননি। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের হস্তক্ষেপে দুই নেতা আবারও একসঙ্গে সভায় বসেন। আগামীকাল রোববার সম্মেলনকে সফল করতে অবশ্য তারা এখন একসঙ্গে কাজও করছেন।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে এখন পুরো জেলায় আলোচনা চলছে- কে পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব? পুরোনোরাই, নাকি নতুনরা আসছেন নেতৃত্বে? এ নিয়েই চায়ের স্টলগুলোর আলোচনা এখন জমজমাট।

এবার পুরোনো দুই নেতা ছাড়াও নেতৃত্ব পেতে চাচ্ছেন অনেকেই। এর মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ রায়হানুল হক, বাগমারা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ এনামুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক সাংসদ বেগম আখতার জাহান, সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দীন মোল্লা এবং সাবেক সাংসদ কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার নাম শোনা যাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আয়েন উদ্দীন, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলফোর রহমান ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি আদিবা আনজুম মিতার নাম শোনা যাচ্ছে।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রী করেছেন। যদি তিনি চান, তাহলে আবারও দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করব।

রায়হানুল হক বলেন, সংগঠনের চরম দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। ত্যাগ-তিতিক্ষা কতটুকু আমার রয়েছে, তা কমবেশি সবারই জানা। এখন সুসময়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিলে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।

এনামুল হক বলেন, সংগঠনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোনো দায়িত্ব নেব। তা ছাড়া নয়।

আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সম্মেলনে ভোট হলে সভাপতি প্রার্থী হবো। ভোট হলে বিশ্বাস করি, কর্মীরা আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করবে।

ডা. মনসুর রহমান বলেন, সংগঠন ও প্রধানমন্ত্রী যদি চান আমি যে কোনো পদে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করব।

বেগম আখতার জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে এবার সভাপতি হতে চাই।

জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের বিভেদ দূর করে সংগঠনকে গতিশীল করব।

লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, গতবার আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। পরে আমাকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। সংগঠন এবং দলীয় সভাপতি চাইলে এবারও থাকব।

আয়েন উদ্দীন বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন, তবে দায়িত্ব পালন করব। তিনি না চাইলে নয়।

জিএম হিরা বাচ্চু বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে আমি নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছি।

আদিবা আনজুম মিতা বলেন, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলে জঙ্গি, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে কাজ করব।

আরও পড়ুন

×