বিশ্ব সংগীত দিবস আজ, সুরের ভাষায় মানুষের মিলন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৩:২০
কিছু শিল্পমাধ্যম আছে, যা ভাষা, ভূগোল, ধর্ম কিংবা রাষ্ট্রের সীমারেখাকে অতিক্রম করে সরাসরি হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলে। সংগীত তেমনই এক অনন্য শিল্পভাষা। আজ ২১ জুন, বিশ্ব সংগীত দিবস। সারা বিশ্বে দিনটি পালিত হচ্ছে সংগীতের শক্তি, সৌন্দর্য ও মানবিক বার্তার উদযাপন হিসেবে।
সংগীত আনন্দ, বেদনা, প্রেম, প্রতিবাদ ও স্বপ্নের প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যুগে যুগে এটি মানুষের অনুভূতির ভাষা হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্বজুড়ে এই দিনটি সুর, ছন্দ ও মানবিকতার উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়।
বিশ্ব সংগীত দিবসের মূল দর্শনই হলো সংগীতকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। মঞ্চের গণ্ডি পেরিয়ে জনজীবনের অংশ হয়ে ওঠা এই শিল্পচর্চা পৃথিবীর নানা দেশে এদিন উৎসবের রূপ নেয়। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিল্পী, সংগীত সংগঠন ও সংগীতপ্রেমীরা নানা আয়োজনে দিনটি পালন করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগীতচর্চার ঐতিহ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী ‘সংগীত উৎসব’ আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই উৎসব শুরু হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। এতে থাকবে দলীয় ও একক সংগীত, ঢাক-ঢোলের বাদন, অর্কেস্ট্রা ও সম্মিলিত পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদও দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে এই আয়োজন শুরু হয়। উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা সভা ও সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকালও এই উৎসব চলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাচিকশিল্পী ও সংস্কৃতিজন আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে মানুষের ব্যস্ততা বাড়লেও সংগীত এখনো মানবিক অনুভূতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে। এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং চিন্তা, প্রতিবাদ ও স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণাও জোগায়। বিশ্ব সংগীত দিবসে তাই সুরের কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বানই উঠে এসেছে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সংগীতের মাধ্যমে মানবতা, সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়েই দিনটি উদযাপন করছে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসী।
