দোকানঘর-প্রাইমারি স্কুলে চলে তিতাসের ৪ ইউপির কার্যক্রম
দোকানঘর ভাড়া করে চলছে ইউপি কার্যালয়ের কার্যক্রম- সমকাল
তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৫:০৭
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) তৃণমূল জনসাধারণের সবচেয়ে কাছের ও অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চারটিতেই নেই নিজস্ব কোনও ভবন। এসব পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে দোকানঘর আর সরকারি প্রাইমারি স্কুলে।
সরেজমিনে ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মূলত ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা আবার কোথাও ভূমির ব্যবস্থা হলেও ভূমির অবস্থান নিয়ে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মতবিরোধের কারণে ঝুলে আছে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম।
১ নম্বর সাতানী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে দোকানঘর ভাড়া করে। এই ইউপির চেয়ারম্যান মো. শামসুল হক সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ার পর প্রায় ২০ বছর ধরে অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে কার্যক্রম।
তিনি বলেন, তবে আমার আগের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ধন মিয়ার সময়ে কৃষ্ণপুরের একটি স্থানে ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র হয়েছিল এবং ঠিকাদার কাজ শুরু করার জন্য নির্মাণ সামগ্রীও এনেছিল। কিন্তু নির্ধারিত স্থান নিয়ে সাতানী গ্রামবাসীর আপত্তির মুখে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়। বর্তমানে উচ্চ আদলতে স্থান নির্ধারনের বিষয়টি বিচারাধীন আছে।
শামসুল হক বলেন, আমি ইতি মধ্যে আমাদের এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাতানী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি জানিয়ছি,তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া করবেন।
৫ নম্বর কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমও চলছে দোকানঘর ভাড়া করে। এই ইউপির চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, ১৯৯২ সালে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের একাংশ নিয়ে কলাকান্দি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে কোন স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ২৫ শতক জমি কেনা হয়েছে।
৬ নম্বর ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাপ্তরিক কাজ চলে মানিককান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ইউনিয়ন পরিষদটির চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা জানান, পুরাতন ভবনটি আনুমানিক ৯০এর দশকে গোমতী নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর থেকেই আর কোনও ভবন নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে মানিককান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ২৫ শতক জমি দিয়েছি। এখন ভবন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। অবশ্য স্থানীয়রা জানায়ন, মূলত স্থান নির্ধারণ নিয়ে গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ও দক্ষিণ পাড়ের লোকজনের মতপার্থক্যের কারণেই ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছেনা।
৭ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজ চলে পানি উন্নয়নের যায়গায় নির্মিত অস্থায়ী কার্যালয়ে। এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নিজস্ব ভবন থাকলেও ১৯৯২ সালে ইউনিয়নের একাংশ নিয়ে জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন গঠিত হওয়ার পর ভবনটি জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের আওতায় চলে যায়, ফলে নারান্দিয়া ইউনিয়নে কোনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি।
তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আসমানীয়া বাজারে ২৫ শতক জমি কিনেছি। ভবন নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, বিগত দিনে আমাদের দলীয় এমপি না থাকায় ভবন নির্মাণের অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে আমাদের দলীয় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আমি আশাবাদী।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ রাশেদা আখতার বলেন, যেসব ইউপিতে নিজস্ব ভবন নেই ওইসব ইউপিতে যেন দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা যায় তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপসহ স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে খুব সহসাই আমি কথা বলব। ভবন নির্মাণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, 'সম্প্রতি এমপি মহোদয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি, তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আশা করি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ভূমি জটিলতা সমাধান করে খুব দ্রুত ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া করতে পারব।
