অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় ১৬ শিক্ষার্থীকে শাস্তির সুপারিশ
গত ২ নভেম্বর অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা -ফাইল ছবি
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৫:১৩
অধ্যক্ষকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, ৭ জনকে অন্যত্র বদলি এবং ৫ শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্র আগামী তিন বছর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাউন্সিল। শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে রেজুলশন আকারে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী পলিটেকনিক অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহমেদ জানান, রাজশাহী পলিটেকনিকের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজশাহী পলিটেকনিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিনকে চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মামলা করেন অধ্যক্ষ। এতে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামি করা হয়।
অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ওই সময় ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় যাদের ছাত্রত্ব বাতিল বা রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন- ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের ৮ম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্রো মেডিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-২০১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র মুরাদ হোসেন ও ২০১৮-২০১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী সাজিব হোসেন।
সরাসরি ঘটানার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ৫ শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্রসহ অনান্য কাগজপত্র আগামী তিন বছরের জন্য আটকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন- ২০১৫-২০১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো-মেডিক্যাল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির অহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান ও কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেন।
এছাড়া ৭ শিক্ষার্থীকে অন্যত্র বদলি করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন- ২০১৫-২০১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের (অকৃতকার্য) নাঈম ইসলাম, ২০১৬-২০১৭ সেশনের ইলেকট্রনিক্স ৭ম পর্বের প্লাবন কুমার কুন্ডু, মেকাট্রনিক্স ৭ম পর্বের মেহেদী মাহমুদ, মেকানিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের মেহেদি হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ওমর আজিজ, ২০১৮-২০১৯ সেশনের ৩য় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমান ও পাওয়ার ৩য় পর্বের মাসুদ রানা মীম।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সভার এসব সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রেজুলেশন আকারে শিক্ষাবোর্ডে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এখন বোর্ড থেকে অনুমোদন দিলেই শাস্তি কার্যকর করা হবে।
- বিষয় :
- রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
- রাজশাহী
