কন্যাশিশুর জন্ম দিল ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
ফাইল ছবি
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:৪১
পিতৃপরিচয় ছাড়াই কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে এক শিশুছাত্রী। পঞ্চম শ্রেণিপড়ূয়া ১২ বছরের মেয়েটি শনিবার বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। দুই লম্পটের ধর্ষণের শিকার সে। এর মধ্যে মামলার আসামি হয়ে একজন কারাগারে রয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, নবজাতকের ওজন আড়াই কেজির কম। তার শ্বাসকষ্ট থাকায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মা সুস্থ আছে।
ছাত্রীটির অভিযোগ, সে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাবুল হোসেন এবং তার নিজের বাড়ির চাচা সম্পর্কের জুয়েলের ধারাবাহিক লালসার শিকার সে। দু'জনই একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছে। এ দু'জনের যে কোনো একজন তার সন্তানের বাবা। ধর্ষণ মামলায় জুয়েল কারাগারে রয়েছে।
গর্ভের চার মাসের সময় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে ধরা পড়ে। মায়ের চাপের মুখে সবকিছু খুলে বলে শিশুটি। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের চাপের মুখে শুধু জুয়েলকে আসামি করে মামলা করেছেন শিশুটির মা। প্রসববেদনা নিয়ে তাকে ১০ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
'ভোলা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব' নামে একটি সংগঠন ছাত্রীটির দেখভাল করছে। এ সংগঠনের সদস্য কলেজছাত্র সুজন জানান, গর্ভবতী শিশুছাত্রীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে এসে বিষয়টি তার নজরে আসে। এদিকে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রীটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ৫০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, জুয়েলকে আসামি করে মামলা করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে কারাগারে রয়েছে। তখন কেবল জুয়েলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেয় ছাত্রীটি। মামলার চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষকের নাম আসা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, জুয়েল ছাত্রীর নিকটাত্মীয়। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে প্রধান শিক্ষকের নাম আসতে পারে।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগে করা ধর্ষণ মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। সেটি আদালতে মঞ্জুর না হলে আরেকটি মামলা করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ ও আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। এর আগে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি স্থানীয় রাজনীতির শিকার। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
