ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিলেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিলেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৩

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে শ্রমিকদের কাছে আরও চার দিন সময় চেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে মজুরি কমিশনের দাবি মানা না হলে ২৯ ডিসেম্বর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। বিক্ষোভ মিছিল, শ্রমিক ধর্মঘট, গেটসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ১০ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আমরণ অনশনে বসেন তারা। এর পর টানা চার দিন নিজ নিজ মিলগেটের সামনে অনশন চলে। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন স্থগিত করা হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে তিন দিনের জন্য অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও ওই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বারবার সময় দেওয়ায় নেতাদের ওপর শ্রমিকরা কিছুটা বিরক্ত। আগামী ২৬ ডিসেম্বর মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের তথ্য পাওয়া না গেলে ২৯ ডিসেম্বর থেকে অনশন শুরু হবে।

খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন মজুরি কমিশনের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফাইলের বিষয়ে জানা যাবে। ওই সময়ের মধ্যে ভালো কোনো সংবাদ পাওয়া না গেলে রোববার দুপুর থেকে আবারও অনশনে বসবেন শ্রমিকরা। যেকোনো সময় শ্রমিকরা অনশনে বসতে প্রস্তুত আছেন।

বিভিন্ন মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এখন মাত্র একটিই দাবি, তা হলো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার পর শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে মিল বন্ধ করে দিলেও তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে যে কোনো মূল্যে যেন মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হয়।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাটকলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিল, পাট খাতে পযাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। 

গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বসা ওই শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেননি শুধু যশোরের কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা। টানা অনশন কর্মসূচি পালন করায় বিভিন্ন মিলের প্রায় ২০০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আবদুস সাত্তার নামের এক শ্রমিক মারা যান।

আরও পড়ুন

×