ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: অভিযুক্তকে ছেড়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: অভিযুক্তকে ছেড়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান
×

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:২২

পাবনায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর বাবা রোববার রাতে পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন। এতে সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া শরিফুল ইসলাম শরিফসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণে অভিযুক্তকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং ওই তরুণীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফ পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামের মো. পাঞ্জাব প্রাংয়ের ছেলে মো. ফিরোজ প্রাং ও তার সহযোগীরা কৌশলে মালিগাছা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর ওই বাড়িতে থাকা তরুণীকে ধর্ষণ করে তারা। এ সময় তরুণীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে ফিরোজকে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফিরোজের বাবা পাঞ্জাব প্রাং এবং ইউপি চেয়ারম্যান শরিফ দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় ফিরোজকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলে নিজ জিম্মায় নেন চেয়ারম্যান। এরপর তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেন তিনি। এ ঘটনা জানতে পেরে ওই তরুণী পরদিন রাতে ফিরোজের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করে। এ সময় ফিরোজ ও চেয়ারম্যানের দলবল মেয়েটিকে বেধড়ক মারধর করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারধরের আগে সন্ত্রাসীরা মেয়েটিকে আবারও ধর্ষণ করে। পরে মৃত ভেবে তার বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, মামলার পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। আদালতের নির্দেশে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।

এ ব্যাপারে মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। 


আরও পড়ুন

×