গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা: সিআইডিকে মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ
আদালত চত্ত্বরে ভীড় জমান সাঁওতালরা- সমকাল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৬ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫০
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা ও অগ্নিসংযোগ মামলায় দু'দফা নারাজি শুনানির পর তৃতীয় দফার শুনানি সোমবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে অনুষ্ঠিত হয়।
বাদীপক্ষের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী এবং গাইবান্ধা জেলা জজকোর্টের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু, আইনজীবী মুরাদজামান রব্বানী, আইনজীবী শাহ নেওয়াজ, আইনজীবী ফারুক কবীর ও গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ফয়জুল আলম রণন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নারাজি পিটিশন গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের প্যানেল আইনজীবীদের পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রশাসনের সহযোগিতায় গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তিন নিরীহ সাঁওতালকে হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাঁওতালদের পক্ষে আদালতে মামলা করা করলে সেটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) দেওয়া হয়। কিন্তু পিবিআই প্রভাবিত হয়ে তদন্ত শেষে মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, কাটাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক এমনকি সরাসরি অগ্নিকাণ্ডে জড়িত দু'জন পুলিশ সদস্যসহ ১১ আসামির নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করে। এতে আমরা অসন্তুষ্ট হয়ে মূল আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদসহ বাদ পড়া ১১ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নারাজি পিটিশন করি। আদালত নারাজি পিটিশনের ওপর এর আগে দু'দিন এবং সোমবার তৃতীয় দফা শুনানি শেষে নারাজি পিটিশন গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্ব্বর প্রশাসনের সহযোগিতায় রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল পল্লির জমি নিজেদের দাবি করে হামলা চালায়। ওই হামলায় তিন সাঁওতাল নাগরিক নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া অগ্নিসংযোগের ফলে গোটা সাঁওতাল পল্লি পুড়ে যায়।
- বিষয় :
- গোবিন্দগঞ্জ
- গাইবান্ধা
- সিআইডি
- পুনঃতদন্ত
- সাঁওতাল হত্যা
