র্যাগিংয়ের নামে রাবি শিক্ষার্থীকে হলে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী।
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২১ | ০৯:১৪ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২১ | ০৯:৪৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের নামে সারারাত হলের ছাদে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সকালে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে তার বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয় জুবেরী ভবনে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে কয়েকদিন বিশ্রামে থাকার কথা বলেছেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম সামী এম. সাজিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে নির্যাতনকারীর অধিকাংশই একই বিভাগের শিক্ষার্থী। নির্যাতনের পর ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন না। এজন্য তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা জানান, বিভাগের জ্যেষ্ঠ ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী রাতভর শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ছাদে তাকে র্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরে তাকে ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সকালে একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাহাতের সঙ্গে দেখা করতে আমীর আলী হলে যান। পরে সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাকে আমীর আলী হলের অতিথিশালায় রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
ওই বিভাগের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে নাট্যকলা বিভাগের আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ (কিবরিয়া), তপু, রুবেলসহ কয়েকজন ছিলেন। তাদের মধ্যে তপু শামসুজ্জোহা হলে থাকেন।
আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ র্যাগিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘গতরাতে জোহা হলের ছাদে বিভাগের বড় ভাই ও প্রথম বর্ষের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন ছিলেন। সাজিদকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।’
নাট্যকলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি বিভাগের বেশ কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থী সাজিদকে রাতভর শারীরিক নির্যাতন করেছে। মানিসকভাবেও তাকে বেশ হ্যারেজ করা হয়েছে। তবে যারা করেছে তাদের সবার নাম আমাদের এখনো হাতে আসেনি। বিষয়টি পুরোপুরি জানার পর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আপাতত তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সে কথা বলতে পারলে সব জানা যাবে।’
প্রক্টর অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এ ঘটনার তদারকি করছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’