ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মামলায় ৩ চিকিৎসক কারাগারে

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মামলায় ৩ চিকিৎসক কারাগারে
×

কারাগারে নেওয়া হচ্ছে তিন চিকিৎসককে- সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:০৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলশিক্ষিকা নওশিন আহমেদ দিয়ার মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত চিকিৎসক ডিউক চৌধুরীসহ তিন চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ডিউক চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায় অবস্থিত খ্রিষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক ডিউক চৌধুরী, তার মালিকানাধীন হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ও মামলার আসামি অরুণেশ্বর পাল অভি ও শাহাদাত হোসেন রাসেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া চার সপ্তাহের জামিন শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ডা. ডিউক ও অপর দুই চিকিৎসক। তখন অবকাশকালীন বিচারক মো. হাসানুল ইসলাম মামলাটি অধিকতর শুনানির জন্য ১ জানুয়ারি ধার্য করেন।

বুধবার সকালে ধার্য তারিখে ওই তিন চিকিৎসক আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। দুই দফায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত জানান, মামলার তিন আসামি উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ১৮ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। পরে অবকাশকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জামিন না দিয়ে মামলার অধিকতর শুনানির জন্য ১ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। বুধবার অধিকতর শুনানি শেষ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ পরান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে যাব।

গত ৩০ অক্টোবর প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা নওশিন আহমেদ দিয়া একই এলাকার ডা. ডিউক চৌধুরীর খ্রিষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার আগাম প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দিয়া একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই দিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

পরে ৪ নভেম্বর ভোরে দিয়ার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে তাকে আবারও খ্রিষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন ডিউক চৌধুরী, অরুণেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ভুল ইনজেকশন এবং ওষুধ প্রয়োগ করার পর দিয়া অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় তার স্বজনরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকতে বললে ডিউক ও বাকি দুই চিকিৎসক চুপ থাকেন। একপর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওই দিন দুপুর ১টার দিকে দ্রুত তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে দিয়াকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা আগেই দিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

এ ঘটনায় দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু বাদী হয়ে ওই তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

×