ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

হাত-পা নেই, মুখে ভর দিয়ে লিখেই জিপিএ ৫

হাত-পা নেই, মুখে ভর দিয়ে লিখেই জিপিএ ৫
×

মুখে ভর দিয়েই লেখে লিতুন জিরা- সমকাল

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:২৯

প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং মেধা দিয়ে পরিবারের দুঃখ-কষ্টকে জয় করেছে দুই হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া লিতুন জিরা। মুখে ভর দিয়ে লিখেই জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।

লিতুন জিরা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখপাড়ার খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। সে খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিতুনের ইচ্ছা, পরনির্ভরশীল না হয়ে লেখাপড়া শিখে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা। বুধবার লিতুন জিরা গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

জানা যায়, লিতুনের বাবা হাবিবুর রহমান উপজেলার নন-এমপিও একটি কলেজের প্রভাষক। ১৭ বছর ধরে চাকরি করলেও আজও এমপিওভুক্ত হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অর্থনৈতিক অনটনের জন্য দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ তাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম তিনি। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে লিতুন ছোট। ছেলে ইশতিয়াক হোসেন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

লিতুন জিরার বাবা ও মা জাহানারা বেগম জানান, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন তারা। বিনা বেতনে চাকরির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ফসল ফলিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন হাবিবুর রহমান। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা হুইলচেয়ারে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। একমাত্র চলাচলের বাহন হুইলচেয়ারটি একপর্যায়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে লিতুনের যাওয়া-আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অতিকষ্টে তার বাবা একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার পর সে আবারও স্কুলে যায়। লিতুন জিরার মেধা আর আত্মবিশ্বাস বাবা-মায়ের কাছে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।

লিতুনের মা জানান, হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান লিতুন অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোসল সব কিছুই করতে পারে। মুখে ভর করেই সে লেখালেখি করে। তার চমৎকার লেখা যে কারও দৃষ্টি কাড়বে।

খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন জানান, দুই হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া লিতুন জিরা প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মেধার বিকাশে মুখ দিয়ে লিখেই সে স্বাক্ষর রেখেছে। বুধবার লিতুন জিরা গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি যশোর জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য (পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের স্ত্রী) আনুষ্ঠানিকভাবে লিতুনের হাতে এক সেট বই তুলে দেন।

লিতুনের বাবা জানান, তার মেয়েকে তন্দ্রা ভট্টাচার্য লেখাপড়ায় আর্থিকসহ সব সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত লিতুন জিরা জানায়, পরনির্ভরশীল না হয়ে লেখাপড়া শিখে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই তার ইচ্ছা।

আরও পড়ুন

×