লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ভিড়
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ভিড় - সমকাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৯:৩৫ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৯:৩৫
ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এমনিতেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এবার বিজয় দিবসের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় সে সময়টাও কাজে লাগিয়েছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষজন। লাউয়াছড়ার অভয়ারণ্য, ছায়াঢাকা পথ, অসংখ্য গাছ-গাছালি আর গাছের ডালে হনুমানের আনাগোনা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর- এই তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের টিকিটের ফি ও পার্কিং থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৬৩১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
টানা তিন দিনের ছুটিতে শনিবার পর্যন্ত কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সারাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর ছিল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, সবুজ চা বাগান ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে বেড়িয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পেরে তারা যেমন খুশি, তেমনি খুশি কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী ও পর্যটন-সংশ্নিষ্টরা।
তবে পর্যটকদের সঙ্গে সঙ্গে লাউয়াছড়ার মূল ফটকের আশপাশে বেড়েছে ময়লার স্তূপ। বন বিভাগের পক্ষ থেকে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও বেশিরভাগ পর্যটক তা ব্যবহার করেননি। ফলে অভয়ারণ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জেরিন খান বলেন, 'এখানে এসে মন খারাপ হলো। এত পর্যটক এবং তাদের হৈচৈ, যত্রতত্র প্লাস্টিকের খালি বোতল, চিপসের প্যাকেট! এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির ক্ষতি হবে। বন্যপ্রাণীর ঘর লাউয়াছড়া। তাই আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতিবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নয়তো সংকট বাড়বে।'
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, অধিক পর্যটকের কারণে বনের বন্যপ্রাণী দৌড়ে অনেকটা গভীর অরণ্যে চলে যায়। এছাড়াও বনের শান্ত, নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় থাকে না। বনে অনেক ধরনের গুল্ম রয়েছে, যা পর্যটকদের পায়ে পিষ্ট হয়ে যায়। তাই এগুলো নিয়ে আরও ভাবনার সময় এসেছে।
রংপুর থেকে পরিবার নিয়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া এসেছেন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় এতোগুলো পর্যটনকেন্দ্র আছে, যা অন্য কোথাও নেই। এখানকার চা বাগান, মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের শান্তি দেয়। সরকারিভাবে এখানকার পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন প্রয়োজন।
লাউয়াছড়া উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড সাজু মার্চিয়াং বলেন, 'বন্ধের দিনগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক আসেন এখানে। চট্টগ্রাম, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা লাউয়াছড়ায় আসেন। আশপাশে আরও কিছু ভালো রেস্ট হাউস ও রেস্টুরেন্ট থাকলে পর্যটকদের সুবিধা হতো।'
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টানা তিন দিনের ছুটিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিজয় দিবসের দিনে ২ হাজার ৮৩৫ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। তার মধ্যে ৮ জন ছিলেন বিদেশি। সেদিন আয় হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এর পরের দিন শুক্রবার ২ হাজার ২৯৩ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন বিদেশি। এতে রাজস্ব আয় হয় ১ লাখ ৯ হাজার ১৯০ টাকা। ছুটির শেষ দিন শনিবারে প্রবেশ করেন ১ হাজার ৫৭৮ জন পর্যটক, যার মধ্যে ৬ জন বিদেশি। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৮৫ টাকা।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, 'তিন দিনে প্রচুর পর্যটক এসেছিলেন। আমরা সব সময়ই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সজাগ থাকি।'
