ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দুই গারো কিশোরীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, ৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরা

দুই গারো কিশোরীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, ৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরা
×

প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২২ | ০৫:৪২ | আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২২ | ০৫:৪৮

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের একটি গ্রামে প্রতিবেশীর বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুই গারো কিশোরীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগ এসেছে।

পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সোমবার বিকেলে হালুয়াঘাট সীমান্তে সড়কে বিক্ষোভ করে মানববন্ধন করেছেন গারো সম্প্রদায়। 

লোকলজ্জার ভয়ে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনাটি নিয়ে গারো সম্প্রদায় চুপ থাকলেও পরে পুলিশ খবর পেয়ে কিশোরীদের বাড়িতে যান। ৩০ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন নির্যাতিতা এক কিশোরীর বাবা।

মামলার অভিযোগপত্রে মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ জনকে। মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য কচুয়াকুড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে সোলায়মান হোসেন রিয়াদ (২২)।

রিয়াদ ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন- কচুয়াকুড়া গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে শরিফ (২০), আবদুল হামিদের ছেলে এজাহার হোসেন (২০), কাটাবাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (২১), তালেব হোসেনের ছেলে কাউছার (২১) দুলাল মিয়ার ছেলে আছাদুল (১৯) মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২১), আবদুল মতিনের ছেলে মিজান (২২), মফিজুল ইসলামের ছেলে রুকন (২১) ও বকুল মিয়ার ছেলে মামুন (২০)। এলাকায় সবাই বখাটে হিসেবে পরিচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় দুই কিশোরীকে। ওই অবস্থায় দুই কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরী পরিবারকে নির্যাতনের ঘটনা জানালে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পরিবার। 

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান খান সমকালকে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। 

পুলিশ রেকর্ড বলছে, আসামি সোলায়মান হোসেন রিয়াদ গত ৯ অক্টোবর ভারতীয় তৈরি মদসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায়।  দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে এলাকায় ফিরে সে। 

গাজীরভিটা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত এক বছর পূর্বেও এক গারো নারীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সালিশ করে বিচার করে সতর্ক করা হয় দলটিকে। সতর্ক করেও এদের থামানো যায় নি। দলটির নেতৃত্ব দেয় রিয়াদ।’ 

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সোমবার বিকেলে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

হালুয়াঘাটের সীমান্ত সড়কে মিছিল শেষে কাজলের মোড় এলাকায় মানববন্ধনে দাঁড়ান বিক্ষুব্ধ মানুষ। আদিবাসীদের সঙ্গে অংশ নেন বাঙালিরাও। 

মানবন্ধন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংসদের (বাগাছাস) হালুয়াঘাটের প্রাক্তন সভাপতি জেমস জিদিল রেমা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন। 


আরও পড়ুন

×