আজ এনইসির বৈঠকে অনুমোদন
নতুন অর্থবছরে এডিপির আকার বাড়ছে ৫০%
আবু হেনা মুহিব
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:৩২ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:৩২
চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নাজুক। জুলাই থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারের দেওয়া বরাদ্দের মাত্র ৩৬ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়গুলো। অর্থাৎ বরাদ্দের ৬৪ শতাংশই খরচ করা সম্ভব হয়নি। এমন প্রবণতার মধ্যেও আগামী অর্থবছরের জন্য বড় আকারের এডিপি নিচ্ছে সরকার।
আজ সোমবার পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে যা ৫০ শতাংশ বেশি। সংশোধনের পর চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা ৫ অর্থবছরের
মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি হার ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় কিছু কৌশল নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা। প্রকল্পের বিদেশি ঋণের অংশ বাড়ানোর পরামর্শ রয়েছে। এ ছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত একটি ছকে আনা, প্রকল্প পরিচালকের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, আর্থিক হিসাব ও হিসাব ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্রকল্পের ঋণের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা ও প্রকল্প নেওয়ার আগে নিখুঁত সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, যখন বিদ্যমান বরাদ্দের বড় অংশই অব্যয়িত থাকে, তখন নতুন করে বিশাল আকারের এডিপি গ্রহণ করলে অপচয়, অদক্ষতা এবং অনিয়মের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। সমকালকে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এডিপি ৬৪ শতাংশ অর্থ অব্যয়িত থাকা দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অদক্ষতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে, প্রকল্প গ্রহণের তুলনায় বাস্তবায়ন সক্ষমতা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ সময়মতো কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বিলম্বিত হচ্ছে এবং জনগণও প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু বড় বাজেট ঘোষণা নয়, বরং সেই বাজেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা উচ্চাভিলাষী বলেই মনে হয়। যদিও দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবুও বর্তমান বাস্তবতায় এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই সরকারের উচিত শুধু এডিপির আকার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রকৃত সুফল দেশের মানুষ পেতে পারে।
- বিষয় :
- এডিপি
