ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
×

ছবি: সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ০৯:২৫

ঈদুল আজহার ছুটিতে যান্ত্রিক নগরীর ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মেতেছে পুরো দেশ। সাগরের নীল জলরাশি, পাহাড়ের মেঘের ভেলা আর প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থাপত্যে লাখো পর্যটকের ঢল নামে। কক্সবাজারের সুবিশাল সৈকত থেকে শুরু করে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ, নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কিংবা পাঁচশত বছরের প্রাচীন কুসুম্বা মসজিদ– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে। 

কক্সবাজারে ঠাঁই নেই হোটেলে 
ঈদের ছুটি মানেই যেন অবধারিতভাবে চলে আসে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের নাম। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রচণ্ড রোদ আর তীব্র গরম উপেক্ষা করেই লাখো ভ্রমণপিপাসু মেতেছেন নোনাজলের উচ্ছ্বাসে। 

ব্যবসায়ীদের ধারণা, ছুটির দিনগুলোতে প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগমে এবার পর্যটন খাতে ব্যবসা ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

সৈকতের সুগন্ধা, লাবনি ও কলাতলী পয়েন্টে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ফজলে ওমর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সমুদ্রের গর্জনের যে অনুভূতি, তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। সেই অনন্য অনুভূতির টানেই বারবার কক্সবাজারে ছুটে আসি। 

মেঘের রাজ্যে রঙের মেলা 
পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা রাঙামাটিও পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। শহরের ঝুলন্ত সেতু, পুলিশের পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক ও আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মেতেছেন জলবিহারে। 

এদিকে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ মেঘের রাজ্যখ্যাত সাজেক ভ্যালিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির তথ্যমতে, সেখানকার ১২৫টি রিসোর্ট ও কটেজের ৯০ শতাংশের বেশি কক্ষ আজ সোমবার পর্যন্ত ভাড়া হয়ে গেছে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার পর্যটক সাজেকের পাহাড়ি রাস্তায় সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মায়াবী রূপ উপভোগ করছেন। 

পাহাড়পুর-কুসুম্বা মসজিদ 
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে মানুষের ঢল নেমেছে দেশের ঐতিহাসিক প্রত্নস্থলগুলোতেও। নওগাঁর বদলগাছীতে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (সোমপুর মহাবিহার) এখন দর্শনার্থীদের কোলাহলে পরিপূর্ণ। অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত বিশ্বের এই বৃহত্তম বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ আর অসাধারণ টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলক দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ইতিহাসপ্রেমীরা। মান্দা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় পাঁচ শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কুসুম্বা মসজিদেও মুসল্লি ও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

কুয়াকাটা, সিলেট ও বান্দরবানে পর্যটক কম 
কক্সবাজার ও রাঙামাটি যখন পর্যটকের ভিড়ে ঠাঁইহীন, তখন পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, সিলেট ও বান্দরবানে দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। কুয়াকাটার প্রায় ২৩০টি আবাসিক হোটেলের অধিকাংশেরই অর্ধেকের বেশি কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানুষের ব্যয় সংকোচনের কারণেই কুয়াকাটায় এবার পর্যটক খরায় ভুগছে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটেও দেখা গেছে একই চিত্র। জেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি আর সাদাপাথরে অন্যান্য বছরের মতো পর্যটকের ভিড় দেখা যায়নি। তবে লাক্কাতুরা, মালনীছড়াসহ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা বাগানগুলোতে দেখা গেছে স্থানীয় দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। 

এদিকে, পাহাড়, ঝিরি আর ঝর্ণার জেলা বান্দরবানেও পর্যটক অনেক কম। তবে লামা উপজেলার মিরিঞ্জা এলাকায় মেঘ আর পাহাড়ের মিতালি দেখতে ভিড় করছেন পর্যটক। 
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিস, ব্যুরো ও প্রতিনিধি) 

আরও পড়ুন

×