ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটির ছয় দিনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৯১ জন

ঈদের ছুটির ছয় দিনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৯১ জন
×

দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা সেতু এলাকা থেকে তোলা সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ০৯:৩১

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এর আগের দুই দিন (মঙ্গল ও বুধবার) এবং পরের তিন দিনসহ মোট ছয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৯১ জন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এ ছাড়া বাস, ট্রাক ও অটোরিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে।

বগুড়ায় নিহত ১২
ঈদের ছুটিতে বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঈদের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হয়েছেন।

ঈদের আগের দিন বুধবার সকালে আনিছুর রহমান রংপুর থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে নিয়ে পাবনার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বগুড়ার বনানী এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান আনিছুর রহমান ও শিশুসন্তান পুষ্প। আহত হন তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগম।

ঈদের দিন শেরপুরে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন। গত শনিবার রাতে শিবগঞ্জ এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী আফরাফুল ইসলাম নামের এক স্কুলশিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।

কাহালু উপজেলায় চাকা পাংচার হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। 
এদিকে বুধবার নন্দীগ্রামে এক ট্রাকের ধাক্কায় আরেক ট্রাকের চালকের হেলপার নিহত হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়ায় বাসের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

ফরিদপুরে নিহত ৮
ঈদুল আজহার ছুটিতে ফরিদপুরের সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঈদের আগের দিন বুধবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নুরুমিয়া বাইপাস সড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মিম খাতুন (২৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে ফরিদপুর সদরের ব্রাহ্মণকান্দা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫)। 

একই দিন বিকেলে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার নারানখালী ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাজন শেখ (১৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ইব্রাহিম ফকির (১৭)।

বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্বসদরদী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন সাইফুল মোল্লা (২৩) ও আলী ইমরান শরীফ (২৪)। আহত হন দুজন। একই দিন আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আউষের হাট এলাকায় নছিমন উল্টে নিহত হন উমর শেখ (২১)। ঈদের দিন বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন ময়না খাতুন (৬৫)।

গাইবান্ধায় প্রাণ গেল ৭ জনের
গাইবান্ধায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতে পলাশবাড়ী উপজেলার রাইগ্রাম নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক পারাপার হতে বাসচাপায় আব্দুল হামিদ (৬০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকা এই দুর্ঘটনা ঘটে। পলাশবাড়ী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে রিক্তা খাতুন (২৫) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। 

সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তর প্রান্তে শহরের মোড়ে ঈদের দিন বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মালেকা বেগম (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

নেত্রকোনায় মা, মেয়েসহ নিহত ৬
নেত্রকোনায় গতকাল রোববার সকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস মোড় এলাকায় বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা ও তাঁর দুই মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন– সদর উপজেলার আমলী কেশবপুর গ্রামের আইনুল হকের স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৪৫), বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫) ও ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ইতি (১০) এবং অটোরিকশাচালক রেহান মিয়া (৩৫)। 

এদিকে কলমাকান্দা উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে নাজিরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

চট্টগ্রামে ৬ জন নিহত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও থ্রি-হুইলার (লেগুনা) মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন– মো. ইউসুফ (৫৩), হারুনর রশিদ (৫১), রুবেল (২৬) ও সজীব হোসেন (২৬)। শনিবার বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি এলাকার রাঙাপানি চা-বাগানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছেন।  নিহতরা হলেন– সীমান্ত দাশ (২২) ও জয় মল্লিক (১৮)।

ঢাকায় নিহত ৬ জন
ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীতে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ভাটারার নতুন বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। ডেমরা ও বাড্ডায় নিহত হয়েছেন দুজন।

বুধবার সকাল ৬টার দিকে ভাটারা থানার নতুন বাজার এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে উঠে যায়। বাসটি উল্টো লেন ধরে আসা আরেকটি বাসে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চারজন যাত্রী নিহত হন। দুটি বাসের অন্তত ১০ জন আহত হন।

বুধবার সকালে উত্তর বাড্ডায় একটি বাসের ধাক্কায় মোখলেছুর রহমান নামের একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক নিহত হন। ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে মোখলেছুরের অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়েন। 

ঈদের দিন রাতে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় প্রাইভেটকারের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রাজিবুল ইসলাম নিহত হন। বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তিনি। 

গোপালগঞ্জে ৫ প্রাণহানি
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন বলে ঢাকা থেকে বাসে রওনা হন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কোলারদোনিয়া গ্রামের সোহাগ (৪০)। কিন্তু বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি তারা। তাদের বহনকারী বাসটি গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রামে পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সময় প্রাণ হারান সোহাগ, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী।
 
বৃহস্পতিবার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ওই তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হন। 
দিনাজপুরে দুই শিশুসহ নিহত চার, নরসিংদীতে চার, ময়মনসিংহে তিন, বরিশালে এক পরিবারের তিনজন, কুষ্টিয়ায় তিন, সিরাজগঞ্জে তিন, সাতক্ষীরায় দুই, চাঁদপুরে দুই, পটুয়াখালীতে দুই, ঝিনাইদহে দুই, সিলেটে দুই ও হবিগঞ্জে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা, জামালপুর, ঝালকাঠি, নড়াইল, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, ভোলা, নীলফামারী ও রংপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন।

(সমকাল প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×