জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই, সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে: মীর নাসির হোসেন
‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে মীর নাসির হোসেন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৫ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৮
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই। সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে। খুব সহজেই এই চুরি ঠেকানো যায়। বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
মীর নাসির জানান, তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে অথচ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধা না পেয়ে বিপদে আছেন।
এফবিসিসিআই- এর সাবেক সভাপতি বলেন, সার কারখানায় গ্যাস না দিয়ে তা যদি টেক্সটাইল বা অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে দেওয়া যায়, তবে অর্থনীতির জন্য তা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
সুশাসনের অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে বলেছিলাম- যে জোনে গ্যাস চুরি হচ্ছে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সব লোকের জবাবদিহি কেন করা সম্ভব হচ্ছে না? আজকে গ্যাসের লাইন কাটা হয়, কালকে আবার সেটা পুনসংযোগ হয়। এই যে সুশাসনের অভাব সেটার জন্য কিন্তু আমরা সবসময় সাফার করছি।
তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহে ডমেস্টিকে না ইন্ডাস্ট্রিতে অগ্রাধিকার দেব সেটির সঠিক সিদ্ধান্ত নেই। আমরা কেন ডমেস্টিকে কন্টিনিউ করছি? এটি আমার প্রশ্ন। এখন ব্যাপারটা হলো যে, বিষয়গুলো যদি ভালোভাবে দেখা না হয় তাহলে কিন্তু গ্যাসের এই সমস্যা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো না। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেটা আছে সেটা হচ্ছে হলো- বাংলাদেশ ল্যান্ড কান্ট্রি। এখন সোলার প্লান্ট করতে গেলে প্রচুর জায়গার দরকার।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, জায়গা আছে এবং সরকারকেই সেভাবে বরাদ্দ করে দিতে হবে। জায়গা সরকারের কাছ থেকে নেওয়া খুব কঠিন। আর ব্যাটারির ব্যাকআপের খরচ কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যয়বহুল। সারা পৃথিবীতে লিথিয়ামের অভাব। সেজন্যে আমি মনে করি, এই জিনিসটা সরকারের দেখা উচিত।
তিনি বলেন, আজকে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। প্রেজেন্টেশনে বলা হয়েছে ৩০ শতাংশ কম প্রডাকশন কিন্তু আমি আমার ইন্ডাস্ট্রির তথ্য নিয়ে এসেছি। গত দুই মাসে ৫২ শতাংশ কম গ্যাস আমি পেয়েছি। তার মানে আমার অর্ধেকের বেশি ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ। সেগুলোর তো আমাদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। ব্যাংক সুদ বহন করতে হচ্ছে।
- বিষয় :
- এফবিসিসিআই
- জ্বালানি
- সংলাপ